• অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নীলরতনের পাঁচিল ঘেঁষেই অবাধে আগুন জ্বেলে রান্না

1
উপরে পলিথিনের ছাউনি। এনআরএসের গায়ে আগুন জ্বেলে রান্না। ছবি: দেবস্মিতা চক্রবর্তী।

Advertisement

সার দিয়ে বসানো গ্যাস স্টোভ। জ্বলছে আগুন। উপরে চাপানো বড় বড় হাঁড়ি-কড়াই। কোনওটায় ভাত, কোনওটায় বা মাছ ভাজা হচ্ছে। রান্নাবান্না চলছে পলিথিনের ছাউনির নীচে। যে দেওয়ালে পলিথিন বাঁধা, তা শহরের অন্যতম ব্যস্ত হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের। দেওয়ালের ওপারেই ইমার্জেন্সির দশতলা বাড়ি। হাসপাতালের কর্মীরা তাই সর্বদাই আতঙ্কে। কোনও ভাবে আগুন লাগলে হাসপাতালও যে রেহাই পাবে না, বিলক্ষণ জানেন ওঁরা। কিন্তু করার তো কিছু নেই, আক্ষেপ তাঁদের।

ঠিক উল্টো চিত্র এসএসকেএমের সামনে। ওই হাসপাতালের দেওয়াল ঘেঁষে কোনও খাবারের দোকান নেই। উল্টো দিকের ফুটপাথে এক সময়ে সার দিয়ে বিক্রি হত খাবার। পলিথিনের নীচে আগুন জ্বেলেই হত রান্না। তবে এখন আর সে দৃশ্য নজরে পড়ে না।

কেন? পুলিশই জানিয়েছে, বছর দুই আগে মহাকরণ যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক দিন ওই ফুটপাথে আগুন জ্বেলে রান্না হতে দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন। হাসপাতালের সামনে ও ভাবে আগুন জ্বালানো হলে তা থেকে যে বিপদ হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন পুর-প্রশাসনকে। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, দমকলমন্ত্রী জাভেদ খান, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়দের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়ে দেন, ওই এলাকায় হকারদের বিশেষ ভ্যানে ব্যবসা করতে হবে। ভ্যানের মাথায় থাকবে ছাতা। প্রশাসনের তরফে প্রত্যেককে ভ্যানরিকশা দেওয়া হয়েছে। নীল-সাদা ওই ভ্যানের উপরে একই রঙের ছাতা। যত দিন পর্যন্ত তার ব্যবস্থা হয়নি, তত দিন রীতিমতো নজর রেখেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এখন ওই এলাকায় গেলেই নজরে পড়বে এসএসকেএমের সামনে সার দিয়ে দাঁড়ানো একই রঙের ভ্যানে সুষ্ঠু ভাবে চলছে হকারদের ব্যবসা।

কিন্তু এসএসকেএমের ক্ষেত্রে যে বিষয়ে সজাগ প্রশাসন, এনআরএসের ক্ষেত্রে তা নয় কেন? পুলিশ জানায়, এনআরএসের পাঁচিলের পাশে ওই জায়গাটি পুরসভার। কিছু করতে হলে পুরসভাকেই করতে হবে। আর হাসপাতালের গায়ে যে ওই ভাবে আগুন জ্বেলে রান্না হয়, তা জানেনই না মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। তবে পুরসভার অফিসারেরা সব জেনেও নীরব। তাঁদের কথায়, ও সবই বেআইনি। জবরদখল করে বসে আছে। অগ্নিকাণ্ডের ভয় আছে সব সময়ে। তবুও সরকারি নীতির কারণে চুপ থাকতে হয়। এ নিয়ে পুরসভার একাধিক অফিসারের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী তো আর শিয়ালদহের ওই রুটে যাতায়াত করেন না। তাই ওখানে নজর পড়েনি মেয়রের। হয়তো এ ভাবেই পুরসভার নজরের বাইরে থাকায় শিয়ালদহের সূর্য সেন মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছিল ১৭ জনের।

শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বেলেঘাটা রোডে ওঠার মুখেই বাসস্ট্যান্ড। স্ট্যান্ড থেকে বিদ্যাপতি সেতুর উপরে উঠতেই বাঁ দিকে সার দিয়ে ভাতের হোটেল। পলিথিনের ছাউনিতে ফুটপাথ দেখাই যায় না। প্রায় সব ক’টাই এনআরএসের দেওয়ালের গা জুড়ে। সকাল থেকেই সেখানে গ্যাস স্টোভ জ্বালিয়ে চলে রান্নাবান্না। জ্বলন্ত স্টোভের পাশেই বেঞ্চ পেতে খাওয়া-দাওয়া। স্টেশন, হাসপাতালে আসা শ’য়ে শ’য়ে মানুষ ভিড় করছেন সেখানে। কম পয়সায় ভাত-তরকারি। তাই ভিড়ও বেশ।

হাসপাতালের পাশে আগুন জ্বেলে ব্যবসা চলায় চিন্তিত চিকিত্‌সকেরাও। শল্য বিভাগের এক চিকিত্‌সকের কথায়, “জরুরি বিভাগের বিভিন্ন তলে রোগীরা থাকেন। বারান্দার রেলিংয়ে জামাকাপড়ও মেলা থাকে। আগুন লাগলে তা ওয়ার্ডের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।” দেখা গেল, পাঁচিলের যে পাশে রান্না চলছে, তার ঠিক উল্টো দিকেই সার দিয়ে রাখা ডাক্তারদের গাড়ি। অর্থাত্‌, আগুন লাগলে তা আরও ভয়ঙ্কর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডাক্তারদের জিজ্ঞাসা, আগুন লাগলে তার দায় কে নেবে? পুলিশই বা নীরব কেন? ডেপুটি কমিশনার (ইএসডি) ধ্রুবজ্যোতি দে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব ওই জায়গায় নতুন কোনও হকার বসতে না দেওয়া। জায়গাটা পুরসভার, তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে পুর-প্রশাসনই।” আর মেয়র বলেন, “খোঁজ না নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন