রাস্তার উপরেই কাঠের দোকান। তার সঙ্গে লাগোয়া একটি গুদাম। দাউ দাউ করে জ্বলছে সেটি। পুড়ে গিয়েছে দোকানও। কালো ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকেছে আকাশ। আগুন নেভাতে একটানা হোস পাইপ দিয়ে জল ঢেলে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এই দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছেন পথচলতি মানুষ।

সোমবার বিকেলে বৌবাজারের ১৩১ নম্বর রাজা রামমোহন রায় সরণির এই অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ওই চত্বরে। এ দিন ওই গুদামের ভিতরে ঢুকে আগুন নেভানোর সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকজন দমকলকর্মী। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন বিকেল ৪টে নাগাদ ওই গুদাম থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে খবর দেওয়া হয় দমকলে। অভিযোগ, প্রায় ৪৫ মিনিট পরে পৌঁছয় দমকলের ইঞ্জিন। ততক্ষণে গোটা গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সুব্রত পোদ্দার নামে এক বাসিন্দা বলেন, “গুদাম ভর্তি কাঠ রাখা ছিল। দমকল আসতে দেরি করায় আগুন ভয়াবহ হয়ে ওঠে।” খবর পেয়ে মুচিপাড়া থানা থেকে আসে পুলিশ। আসেন পুলিশকর্তারাও। এ ছাড়া, দমকলের ইঞ্জিন দফায় দফায় এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

আগুনে ওই কাঠের দোকান ও তার গুদামের পাশাপাশি পুড়ে যায় লাগোয়া আরও একটি দোকান। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুদামটির পাশেই তিনতলা একটি বাড়ির কিছু অংশ। তবে সময়মতো বার করে আনা হয় সেখানকার বাসিন্দাদের। কাঠের দোকান থেকেও যতটা সম্ভব সঞ্চিত কাঠ বার করে আনেন স্থানীয়েরা। আশপাশের বাড়ি ও দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ওই গুদামের পিছনেই রয়েছে একটি বস্তি। আগুন যাতে সেখানে ছড়িয়ে না পরে, তাই দমকলের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে হাত লাগায় স্থানীয়েরাও। সুরক্ষার স্বার্থে রাস্তার উল্টো দিকে লেডি ডাফরিন হাসপাতালেরও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।

দমকলের এক অধিকর্তা বলেন, “রাস্তায় যানজটের ফলে শুরুর দিকে ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে একটু দেরি হয়। জলও প্রচুর পরিমাণে লেগেছে। ইঞ্জিনের জল যাতে কম না হয়ে যায়, তার জন্য একটি হাইড্র্যান্টের সঙ্গে পাইপ দিয়ে তা জুড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত হবে।”

ঘটনাস্থলে দমকলমন্ত্রী জাভেদ খান বলেন, “২২টি ইঞ্জিন ও ৫টি পোর্টেবল পাম্প ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি ইঞ্জিন কয়েক বার গিয়ে জল নিয়ে আসে।” ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কাউন্সিলর সত্যেন্দ্রনাথ দে, ৫ নম্বর বরো চেয়ারম্যান অপরাজিতা দাশগুপ্ত ও স্থানীয় বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সেখানে যান কলকাতা পুরসভার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।

স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক বছর আগে ওই রাস্তাতেই আরেকটি কাঠের দোকানে আগুন লেগেছিল। তার পরে কী কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা করা হয়েছিল দোকানগুলিতে? মেয়র বলেন, “দোকানটি আইনি না বেআইনি, তাতে অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র ছিল কি ছিল না, তা নিয়ে এখনই ভাবছি না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এই অগ্নিকাণ্ডের খবরে যারপরনাই উদ্বিগ্ন। তিনি আমার কাছে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।”

এ দিন অন্ধকার গলিতে লোকজনের ভিড়ের মধ্যেই একটি দোকানের সামনে হতভম্ব হয়ে বসেছিলেন ওই কাঠের দোকানটির মালিক কিশোর গুপ্ত। দোকানে অগ্নিকাণ্ডের কথা শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একটু সামলে নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দোকান পর্যন্ত আগুন ছড়াতে পারে আশঙ্কা করেই খবর দিয়েছিলাম দমকলে। তারা আসতে দেরি করায় আর আগুন ঠেকাতে পারলাম না।”