নির্দিষ্ট বাসস্টপ নেই। সেতুর রেলিং কাঁটা তার দিয়ে ঘেরা রয়েছে। কিন্তু তাতে কী? বাসে উঠতে বা বাস থেকে নেমে, ঝুঁকি নিয়েই সেই রেলিং টপকে যাচ্ছেন অনেকে। এর জন্য কয়েক জায়গায় কাঁটা তার ছিড়েও ফেলা হয়েছে। পাশ দিয়েই তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গাড়ি। এই ছবিটি নবান্ন থেকে কিছু দূরে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজার কাছের।

হাওড়ার বহু বাস কলকাতায় আসে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পার হয়ে। এই সেতুর টোল প্লাজায় মোট ন’টি লেন রয়েছে। কলকাতামুখী বাসগুলি সেই লেন পার হয়ে সোজা চলে আসে বাঁদিকে। সেখানেই সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বহু যাত্রী। যাত্রীদেরই একাংশ জানাচ্ছেন, সেতুর আপ ও ডাউনে ন’টি করে মোট ১৮টি লেন রয়েছে। যে লেন দিয়েই কলকাতামুখী বাস আসুক না কেন, যাত্রী তুলতে হলে সব বাসকেই লেনের বাঁদিকে চলে আসতে হয়। সে সময় পিছন দিক থেকে আসা যে কোনও গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ছাড়া বেশ কিছু বাস রাস্তার মাঝেই দাঁড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বাঁদিক থেকে ছুটে এসে বাসে ওঠেন বলে অভিযোগ। এই সময়েও বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের একাংশ জানিয়েছেন, সেতুতে বাসস্টপ থাকাই বেআইনি। কিন্তু রেলিংয়ের তার কেটে সেতুর উপরেই বাসস্টপ বানিয়ে ফেলেছেন যাত্রীরা। এমনকী সেখানে অস্থায়ী রিকশা স্ট্যান্ডও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক নিত্যযাত্রী জানান, ক্যারি রোডের পরে দ্বিতীয় হুগলি সেতু শুরু হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আর সেখানে উঠতে পারেন না। কাজীপাড়া মোড় হাওড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখান থেকে কোনও ভাবেই সেতুতে ওঠা সম্ভব নয়। তাই রেলিং টপকে বাসে ওঠাটা সহজ পথ।

এক নিত্য যাত্রী বলেন, “রবীন্দ্র সদনে যেতে হলে ক্যারি রোড পর্যন্ত হাঁটা কঠিন। তাই ঝুঁকি নিতে হয়।” যদিও এই যুক্তি মানতে রাজি নন অন্য যাত্রীরা। তাঁদের মতে, যত অসুবিধাই হোক এ ভাবে সেতুতে ওঠা ঠিক নয়। কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের এক কর্তা বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। তেমন হলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।”