ঘটনার দিন দড়ি থেকে ছিঁড়ে ঝুলছিল সেগুলি। এক ঝলক দেখলে মনে হবে, বিদ্যাসাগরের মূর্তির পাশাপাশি ভাঙা হয়েছে সিসি ক্যামেরাগুলিও। এই ঘটনার সূত্রে যে খবর প্রকাশ্যে আসে, তাতে বিতর্ক কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জানা যায়, কোনও সিসি ক্যামেরাই সক্রিয় নেই বিদ্যাসাগর কলেজে। পুলিশও কলেজ কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলে বলে দেয়, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার কোনও সরাসরি ফুটেজ মেলেনি কলেজ থেকে! মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ওই কলেজে বিদ্যাসাগরের জোড়া মূর্তি উদ্বোধনের পরে অধ্যক্ষ গৌতম কুন্ডু হাঁফ ছেড়ে বললেন, ‘‘নতুন মূর্তির সঙ্গে নতুন সিসি ক্যামেরাও পেল বিদ্যাসাগর কলেজ। মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই তড়িঘড়ি ১০টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে!’’

লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন গত ১৪ মে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রোড শো থেকে বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। কাচের বাক্স ভেঙে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি তুলে এনে টুকরো টুকরো করার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই দিনই বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়ে নতুন মূর্তি গড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান মমতা। নির্বাচনী সভা থেকে মোদীও পাল্টা পঞ্চধাতুর মূর্তি গড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই দু’টি মূর্তি বসল বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণি ক্যাম্পাসে। একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয়েছে ওই ক্যাম্পাসের মূল গেটের বাঁ দিকে। অন্য আবক্ষ মূর্তিটি বসানো হয়েছে সেই পুরনো জায়গায়, যেখানে আগের মূর্তিটি ছিল।

দুপুরে হেয়ার স্কুলের মাঠে একটি অনুষ্ঠানের পরে আবক্ষ মূর্তিটি গাড়িতে নিয়ে তার পিছনে হেঁটে বিধান সরণি ধরে বিদ্যাসাগর কলেজে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল চূড়ান্ত। কলেজের আশপাশের এলাকা ছেয়ে ফেলা হয়েছিল বর্ণপরিচয়ের মলাটের গোলাপি রঙা ব্যানারে। নতুন রং করা হয়েছে কলেজ ভবনও। মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কলেজ ভবনের ভিতরে যেখানে আগের আবক্ষ মূর্তিটি বসানো ছিল, সেখানে যান। নিজের হাতে নতুন আবক্ষ মূর্তিটি প্রতিস্থাপনের পরে মাল্যদান করেন তিনি। এর পরে ভবনের বাইরে পূর্ণাবয়ব মূর্তিটির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে ফের ভবনের ভিতরে কলেজের আইকিউএসি (ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাশিওরেন্স সেল)-র ঘরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে তখন হাজির বিদ্বজ্জনেরা। কিছু ক্ষণ পরে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিদ্যাসাগর আমাদের প্রাণ। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে আসলে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সিস্টেমকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছে।’’ আগামী অগস্টে তামিলনাড়ুতে করুণানিধির মূর্তি উদ্বোধন অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পরে কলেজের অধ্যক্ষ গৌতমবাবু জানান, বিদ্যাসাগরের একটি সংগ্রহশালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। কলেজের তৈরি কমিটি সেই সংগ্রহশালার জায়গা চিহ্নিত করবে। সেই সঙ্গেই তিনি জানান, ১০টি নতুন সিসি ক্যামেরার কয়েকটি থাকছে মূর্তি সংলগ্ন এলাকার জন্যই। তবে এ দিনই দেখা গেল, নতুন লাগানো সিসি ক্যামেরাগুলির কয়েকটি ঢাকা পড়ে গিয়েছে। সেগুলি ঢেকেই লাগানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বিশাল ব্যানার। গৌতমবাবু অবশ্য হেসে বললেন, ‘‘এ বার থেকে সব ক্যামেরা ঠিকঠাক চলবে।’’ কলেজের এক কর্মী বললেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে বলে গিয়েছেন! ক্যামেরা মূর্তিও পাহারা দেবে।’’