পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে গুলিবিদ্ধ হলেন এক ব্যবসায়ী। সোমবার, নববর্ষের সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে কামারহাটিতে।

পুলিশ জানায়, ওই ব্যবসায়ীর নাম সাহেব আলি (২২)। ওই ঘটনায় যে বেসরকারি হাসপাতালে যুবকটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে তাঁর পরিজন, প্রতিবেশীরা ভাঙচুর চালান বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, কামারহাটি ফাঁড়ির কাছেই লুটবাগানের বাসিন্দা, ফল ব্যবসায়ী সাহেবকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। গুলি তাঁর বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। তাঁকে বাড়ির কাছেই পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর পরে অটোয় চাপিয়ে চার যুবক সাহেবকে বেলঘরিয়া রথতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ জেনেছে, অটো থেকে নামিয়ে স্ট্রেচারে তোলার পরেই তিন যুবক চলে যান। এক যুবক সাহেবকে নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেবের মৃত্যু হয়েছে দেখে হাসপাতালের তরফে বেলঘরিয়া থানায় খবর পাঠানো হয়।

পুলিশ এসে ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়। অন্য দিকে, সাহেবের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ওই বেসরকারি হাসপাতালে এসে হাজির হন। তাঁরা দাবি তোলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাতে হবে। যাতে তাঁরা চিনতে পারেন কারা সাহেবকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ওই দাবি মানতে রাজি হননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানিয়ে দেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ একমাত্র পুলিশকে দেখানো হবে। অভিযোগ, এর পরেই কয়েক জন কাচ, টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর করতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ প্রথমে উত্তেজিত লোকজনকে সামলাতে না পারায় পরে বিশাল বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রের খবর, কে বা কারা, ঠিক কী কারণে ওই যুবককে গুলি করেছে, তা নির্দিষ্ট ভাবে এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সাহেবের পরিচিত কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।