• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মাটি খুঁড়ে বার করা হচ্ছে ‘চণ্ডী’-কে

east west metro
তোড়জোড়: সেই যন্ত্র। বৃহস্পতিবার, বৌবাজারে। ছবি: সুমন বল্লভ

প্রায় এক বছর পরে বৌবাজারের ধস নামা এলাকার মাটির নীচ থেকে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ‘চণ্ডী’-কে উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু হল। ওই টিবিএম গত এক বছর ধরে মাটির নীচেই আটকে ছিল।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলাকায় ৪০ মিটার দীর্ঘ, ১৫ মিটার প্রশস্ত এবং ২২ মিটার গভীর একটি গর্ত খুঁড়ে আটকে থাকা টিবিএম-কে বার করে আনা হবে। এ জন্য অস্ট্রিয়া থেকে একটি বিশেষ যন্ত্র আনা হয়েছে। গত বছর এসপ্লানেড থেকে শিয়ালদহের দিকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর পশ্চিমমুখী সুড়ঙ্গ খননের সময়ে আচমকা সেখানে ধস নামে। একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ে। সুড়ঙ্গে জল ঢুকতে শুরু করায় কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। পরিস্থিতি এমনই হয় যে, ‘চণ্ডী’-কে জলের মধ্যে ফেলে রেখেই ওই সুড়ঙ্গের একাংশ বন্ধ করে দিতে হয়। প্রায় ছ’মাস কাজ বন্ধ থাকার পরে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাশের পূর্বমুখী সুড়ঙ্গের কাজ ফের শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন শুরু হলে ফের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

এর পরে গত জুন মাসে সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু শ্রমিক ও আধিকারিকদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সেই কাজ তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে হয়। সম্প্রতি তা ফের শুরু হয়েছে। আপাতত পূর্বমুখী সুড়ঙ্গের টিবিএম ঊর্বী  শিয়ালদহ পৌঁছলে সেটিকে খুঁড়ে বার করা হবে। তার পরে ওই টিবিএম দিয়েই ফের বৌবাজার অভিমুখে পশ্চিমমুখী সুড়ঙ্গের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পরে বৌবাজার থেকেই পর্যায়ক্রমে দু’টি টিবিএম বার করা হবে। এই পর্বে আপাতত দুর্ঘটনাগ্রস্ত টিবিএম ‘চণ্ডী’-কে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘চণ্ডী’র দৈর্ঘ্য ১১০-১১৫ ফুট। অতিকায় ওই যন্ত্রটিকে এক বারে উপরে তুলে আনা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে টুকরো করে কেটে ওই যন্ত্র বার করা হবে। প্রায় এক বছর ধরে জলের মধ্যে পড়ে থাকায় ‘চণ্ডী’-কে আর নতুন করে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। তবে ঠিক কী কারণে বৌবাজারে ধস নেমেছিল, তা ওই টিবিএম-কে পরীক্ষা করলে জানা সম্ভব হবে। সেই জন্য বার করার পরে ওই টিবিএম-এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সুড়ঙ্গের ওই ভাঙা অংশকে ঢালাই করে উপর থেকে তৈরি করা হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন