সহবন্দিদের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ তুলে হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে অনশন শুরু করেছিল জ্ঞানেশ্বরী রেল দুর্ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধৃত তপন মাহাতো। অন্য কোনও কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে স্থানান্তরিত করা না হলে অনশন চালিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়েছিল ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা তপন। তবে ১০-১১ দিনের টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে ওই বিচারাধীন বন্দিকে।

মাওবাদীরা রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে রাখায় ২০১০ সালে ২৮ মে ঝাড়গ্রামের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ধরা হয় তপনকে। গত কয়েক বছর বিভিন্ন জেলে বন্দি থাকার পরে তাকে আনা হয়েছিল হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে। অভিযোগ, সেখানে কয়েক জন বন্দি হেনস্থা করে তাকে। তার পরেই সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে অনশন শুরু করে তপন। যদিও সেই খবর জেলের বাইরে আসেনি।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানের সময়ে পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কয়েক জন বামকর্মীকে রাখা হয়েছিল ওই জেলে। সেখানে তপনের অনশনের কথা জানতে পারেন এক কর্মী। ওই বন্দির আইনজীবী তথা মানবাধিকারকর্মী রাংতা মুন্সির দাবি, ‘‘তপনের অনুরোধেই তার অনশনের খবর আমাকে জানান ওই বামকর্মী।’’ আইনজীবীর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার হলেও তপনকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে এক সেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে জেল বদলের দাবি জানালেও জেল কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেননি।

এ নিয়ে গত সপ্তাহে হাওড়া সংশোধনাগারে যান এপিডিআর নেতা আলতাব আহমেদ এবং বাসুদেব মুখোপাধ্যায়-সহ কয়েক জন মানবাধিকারকর্মী। বাসুদেববাবুর অভিযোগ, ‘‘তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পরে জানানো হয়, জেল সুপার দেখা করবেন না। তপনের বিষয়ে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ফিরে আসি।’’ আলতাবের দাবি, ‘‘তপনকে দাগি আসামিদের সঙ্গে রাখা হত। গা-হাত-পা ম্যাসাজ করানো হত।’’ তবে এ বিষয়ে হাওড়া জেলা সংশোধনাগারের সুপার দেবাশিস মণ্ডল বলেন, ‘‘আমি কিছু বলতে পারব না। দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের জানানো হয়েছে।’’

কারা দফতর সূত্রের খবর, তপন অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের হাসপাতালে। দফতরের এক কর্তা বলছেন, ‘‘তপনের কোনও অভিযোগ নেই। তবে অন্য সংশোধনাগারে বদলি করার দাবি করেছে। বদলি করার এক্তিয়ার রয়েছে আইজি-র।’’