মেট্রোর ছন্নছাড়া দশা যেন আর কিছুতেই পাল্টাচ্ছে না।

রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে একটি নন-এসি রেকের দরজা বন্ধ না হওয়ায় শনিবার বিকেলে প্রবল ভোগান্তির মুখে পড়লেন একাধিক মেট্রোর যাত্রীরা। শেষে বিকল হওয়া দরজা খোলা রেখেই রেলরক্ষী বাহিনীর পাহারায় ট্রেনটিকে দমদমে নিয়ে যাওয়া হয়।

মেট্রো সূত্রের খবর, এ দিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই স্টেশনের আপ লাইনে একটি দমদমমুখী নন-এসি রেক এসে থামে। যাত্রীদের নামা-ওঠা মিটে যাওয়ার পর কয়েক মিনিট ধরে বারবার ট্রেনের দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন চালক। কিন্তু একাধিক বার চেষ্টা করার পরেও চালক দেখেন, দরজা ঠিক মতো বন্ধ হওয়ার সঙ্কেত মিলছে না।

কী ঘটেছে, খতিয়ে দেখতে গিয়ে মেট্রোকর্মীরা দেখেন, পিছনের দিক থেকে দু’নম্বর কামরার ডান দিকের একটি দরজা কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। বিষয়টি কন্ট্রোল রুমকে জানানো হয়। ওই স্টেশনে মিনিট ২০ আটকে থাকার পরে কোনও মতে দরজা আটকে ট্রেনটিকে কালীঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাত্রীদের ওঠা-নামা মিটে যাওয়ার পরে ফের সমস্যা 

দেখা দেয়। মিনিট দশেক সময় নষ্ট হয় ওই স্টেশনেও।

এর পরে আর ঝুঁকি না নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষ রেলরক্ষী বাহিনীর দুই কর্মীকে ওই দরজার সামনে মোতায়েন করেন। যাতে পরের স্টেশনগুলিতে ওই দরজা দিয়ে কেউ নামা-ওঠা না করতে পারেন। ডাকা হয় ট্রেনের দরজা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদেরও। কিন্তু সমস্যা না মেটায় দরজা খোলা রেখেই ট্রেনটি দমদমে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই ট্রেনের এক যাত্রী বলেন, ‘‘ঠিক কী ঘটেছে, প্রথমে বুঝতে পারিনি। দেখলাম, টানা প্রায় ১৫-২০ বার দরজা খোলা এবং বন্ধ করার পরেও মেট্রো ছাড়ল না। পরে শুনলাম, দরজা নিয়ে সমস্যা হয়েছে।’’ পরের ট্রেনে আসা এক যাত্রী বলেন, ‘‘রবীন্দ্র সরোবরে এসে শুনলাম, সামনের একটি ট্রেনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কিন্তু কী ঘটেছে, কিছুই বুঝতে পারিনি। ভিড়ে ঠাসা ট্রেন চেপে প্রায় ২৫ মিনিট পরে গন্তব্যে পৌঁছেছি।’’

মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রবীন্দ্র সরোবরে একটি নন-এসি রেকের দরজায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওই দরজা আরপিএফের কর্মীদের পাহারায় রেখে মেট্রোটিকে নিয়ে যাওয়া হয়।’’

মেট্রো সূত্রের খবর, নন-এসি রেকগুলির আয়ু ফুরিয়েছে। দু’ধরনের নন-এসি রেকের মধ্যে এক ধরনের রেকের দরজার যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না। এ দিন সেই ধরনের একটি রেকেই সমস্যা দেখা দেয় বলে খবর।