• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নির্যাতনের অভিযোগ আরও এক স্কুলে

Child Abuse
প্রতীকী ছবি।

রানিকুঠির জি ডি বিড়লার পরে বেহালার এম পি বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। ফের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ।

গত ১৩ সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনায় বেহালার ওই স্কুলে তিন বছরের এক শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার পরে মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছে না তার পরিবার। ঘটনার প্রায় তিন মাস পরেও পুলিশ কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করল না, তা নিয়েও সরব হয়েছেন তাঁরা।

জেমস লং সরণির ওই স্কুলে নার্সারি বিভাগের শিশুটির ক্ষেত্রে দু’বার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রথম বারের ঘটনা ঘটে গত ২০ জুন। শিশুটির মা বলেন, ‘‘সেই রাতে আমার মেয়ে এসে বারবার নিজের শরীরে হাত দিতে থাকে। জিজ্ঞাসা করতে জানায়, স্কুলের এক শিক্ষক ওর শরীরে নিয়মিত হাত দেন।’’ পরের দিনই তাঁরা স্কুলের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে সব জানান। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘অধ্যক্ষ বিষয়টিকে আমল দেননি। ২১ জুন থেকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিই আমরা।’’ তাঁদের দাবি, স্কুলের সহ-অধ্যক্ষ ডেকে পাঠিয়ে মৌখিক আশ্বাস দিতে ফের ১৫ জুলাই থেকে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে শুরু করেন তাঁরা।

এর পরে ফের ১৩ সেপ্টেম্বর। মেয়ে স্কুল থেকে ফিরলে মা দেখেন, প্যান্টে রক্তের দাগ। ভয়ার্ত মুখে সে জানায়, গোপনাঙ্গে যন্ত্রণা হচ্ছে। তাকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান বাবা-মা। চিকিৎসকেরা  পরীক্ষা করে জানান, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে একরত্তি মেয়েটি। এ কথা শুনেই বেহালা থানায় যান তাঁরা। কিন্তু অভিযোগ, থানা প্রথমে অভিযোগ নিতেই চায়নি। শিশুটির বাবার কথায়, ‘‘সব শুনে থানার অফিসার বলেছিলেন, লিখিত অভিযোগ করতে হলে শিশুটিকে হোমে রাখতে হবে। অতটুকু মেয়ে কি হোমে থাকতে পারে? ওই অফিসার সহায়তা না করায় বাড়ি ফিরে আসি। আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর বেহালা মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করি। পক্সো আইনে মামলা শুরু হয়।’’

ওই বাবা-মায়ের আর্তি, ‘‘জি ডি বিড়লার ঘটনার পরে সর্বস্তরের মানুষ সরব হয়েছেন। দুই শিক্ষককে ধরা হয়েছে। আশা করি, আমার মেয়ের ক্ষেত্রেও সুবিচার পাব।’’ তাঁদের অভিযোগ, ‘‘স্কুলকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা বিভাগীয় তদন্ত করেনি। থানায় আমার মেয়ে ছবি দেখে দু’জনকে শনাক্তও করেছিল। তা-ও কেউ ধরা পড়েনি।’’

ওই স্কুলের অধ্যক্ষ হারবার্ট জর্জ বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা রয়েছে। অনেক আয়াও আছেন। এমন অভিযোগ আগে পাইনি। পুলিশকে আমরা সিসি ক্যামেরার সব ফুটেজ দিয়েছি। সেই ফুটেজ বলছে, আমাদের স্কুলে কোনও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেনি।’’ লালবাজারের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘ওই শিশুটি যে দু’জনকে শনাক্ত করেছিল, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর ওই দু’জন শিশুটির ধারেকাছে ছিলেন না। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে স্কুলের একাধিক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন