ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা হাতানোর ঘটনায় ধৃত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর আশিস চন্দ্রের সঙ্গে আরও এক পুলিশকর্মী জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার তদন্তে এমন তথ্যই পুলিশের হাতে এসেছে। যদিও গত দু’মাস ধরে ওই পুলিশকর্মী কাজে আসছেন না বলেই লালবাজার সূত্রের খবর।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ জুলাই নদিয়ার ব্যবসায়ী বাবলু নাথ টাকা এবং সোনার গয়না নিয়ে মুচিপাড়া থানা এলাকায় এলে দু’জন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেন বলে অভিযোগ। পরে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে টাকা এবং সোনা হাতিয়ে বাবলুকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি চলে যায়। মুচিপাড়া থানায় বাবলু অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশের রেকর্ড দফতরের কর্মী এএসআই আশিস চন্দ্রকে গ্রেফতার করে। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হন এক সহযোগী এবং গাড়ির চালকও।

কিন্তু ধৃতদের জেরা করতে গিয়েই জানা যায়, ওই ঘটনায় আরও দু’জন জড়িত ছিলেন এবং তাঁরাও অপহরণের সময়ে গাড়িতে ছিলেন। পুলিশ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ধৃতদের সঙ্গে কথা বলে কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলের নাম পায়। আর সেই সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন ওই কনস্টেবল ঘটনায় যুক্ত থাকলেও গত দু’মাস ধরে থানায় আসছেন না। এমনকি, তিনি কোথায় থাকছেন তা-ও কেউ জানে না। 

লালবাজার সূত্রের খবর, এএসআই আশিস চন্দ্র ২০১৪ সালের ৪ জুলাইয়েও এক বার চুরি, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও হয়। তাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং দু’বছরের জন্য আশিসবাবুর সমস্ত পদোন্নতি আটকে যায়। কিন্তু এক বার এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েও কী করে ওই পুলিশকর্মী আবারও এমন অপরাধ করলেন? তদন্তকারীরা জানান, জেরায় ওই এএসআই জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রচুর টাকা খরচ হয়। তাই তিনি ওই অপরাধ করে ফেলেছেন। যদিও তদন্তকারীরা এর পিছনে আর কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন। লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘‘এক জন পুলিশকর্মী কখনওই টাকার জন্য কোনও অপরাধ করতে পারেন না। খুব শীঘ্রই আশিসবাবুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে।’’