সপ্তাহান্তের বিকেলে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। নিজেই অটো চালাচ্ছিলেন। পিছনের সিটে বছর পাঁচেকের ছেলেকে নিয়ে বসেছিলেন স্ত্রী। যাদবপুর ট্র্যাফিক গার্ডের কাছেই ঘটল বিপত্তি। বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি ট্যাক্সির ধাক্কায় গুরুতর আহত হলেন ওই অটোচালক। যে ঘটনার পরে রাত পর্যন্ত আতঙ্কের ঘোর কাটেনি তাঁর স্ত্রী ও ছেলের।

কী ঘটেছিল এ দিন?

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা নাগাদ ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাদবপুর ট্র্যাফিক গার্ডের সামনে যে ট্র্যাফিক সিগন্যাল রয়েছে, সেখানে নিয়ম মেনেই ঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল একটি বাস। তার পিছনেই ছিল গড়িয়া-গোলপার্ক রুটে চলা ওই অটোটি। হঠাৎ বেপরোয়া গতিতে আসা একটি ট্যাক্সি সজোরে ধাক্কা মারে সেই অটোয়। অটোটি প্রায় ছিটকে গিয়ে ধাক্কা মারে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে। ঘটনার অভিঘাতে দুমড়ে-মুচ়ড়ে যায় অটোর সামনের অংশ। ভিতরে চালকের আসনে ছিলেন পাটুলির বাসিন্দা, বছর বিয়াল্লিশের তাপস গঙ্গোপাধ্যায়। পিছনের সিটে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে। ওই ঘটনায় গুরুতর জখম হন তাপসবাবু। দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক পা দূরেই যাদবপুর থানা। পুলিশকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু অটোর সামনের অংশ এমন ভাবে ভেঙে গিয়েছিল যে, তাপসবাবুকে কিছুতেই বার করে আনা যাচ্ছিল না। শেষমেশ দমকলের গ্যাস কাটারের সাহায্যে অটোর ভিতরের লোহার রড কেটে জখম তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তাপসবাবু ও তাঁর পরিবারকে এর পরে টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাপসবাবুর পায়ের চোট গুরুতর। রাতেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। স্ত্রী ও ছেলের শারীরিক চোট নেই। তবে দুর্ঘটনা-পরবর্তী আতঙ্ক রয়েছে। বছর পাঁচেকের ছেলে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছে না। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও ওই ট্যাক্সিটি বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছিল। ফলে ব্রেক কষলেও গাড়ি সময়মতো থামতে পারেনি। সজোরে ধাক্কা মারে অটোর গায়ে। পুলিশের তদন্তকারী অফিসারেরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে ট্যাক্সিটি আটক করা হলেও তার চালক পালিয়ে গিয়েছেন। শনিবারের সন্ধ্যায় ওই রকম একটি ব্যস্ত রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কী ভাবে এমন বেপরোয়া গতিতে ট্যাক্সি চলছিল, সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।