ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে এ বার যান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অটোচালকদের! 

অবাধ্য অটোচালকদের বাগে আনতে এ রকম ‘নরম গরম’ পথই নিল পুলিশ। লালবাজার সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহ থেকে বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে প্রথম ওই ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা। ছোটখাটো ট্র্যাফিক আইনভঙ্গের ক্ষেত্রে অটোচালকদের দিনের কয়েক ঘণ্টা বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ড এলাকার অধীন রাস্তাতেই নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য যান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পুলিশের সঙ্গে। তবে পুলিশ এটিকে শাস্তি হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের মতে, যান শাসনের সঙ্গে যুক্ত হলে নিজের ভুল বুঝতে পারবেন আইনভঙ্গকারী চালকেরা। তাতে পুলিশ এবং অটোচালক উভয়েরই সুবিধে হবে বলে লালবাজারের কর্তাদের দাবি। বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডে ওই ব্যবস্থা সফল হলে গোটা শহরেই ওই ব্যবস্থা চালু হবে বলে সূত্রের খবর। 

শুক্রবার বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে বাইপাসের ধারে একটি হোটেলে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ট্র্যাফিক আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়মকানুন ভিডিয়ো ফুটেজের মাধ্যমে অটোচালকদের শেখানো হয়। কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষকেরা ছাড়াও কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার অলোক সান্যাল, বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি পল্লব হালদার প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অটোচালকদের যান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বোঝান। ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে দাবি, ওই কর্মশালায় উপস্থিত প্রায় সত্তর জন অটোচালক তাতে সায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই কর্মশালায় অটোচালকদের ‘যাত্রীদের সম্মান ও ভালবাসার’ পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে চালকদের কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না বলে ট্র্যাফিক কর্তারা আশ্বস্ত করেছেন তাঁদের।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯  

লালবাজার জানিয়েছে, বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি অটোচালকদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার। মাস কয়েক আগে খুচরো নিয়ে ঝামেলার জেরে এক যাত্রীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল বেলেঘাটার এক চালকের বিরুদ্ধে। এমন আরও অভিযোগ আছে শহরের নানা প্রান্তেই। এ কারণে পুলিশের তরফে চালকদের গত কয়েক বছর ধরেই বারবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, এর ফলে দুর্ঘটনা, যাত্রী হেনস্থার ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। তা যাতে আরও কমানো যায়, সেই চেষ্টা চলছে।