আড়াই বছর আইনি লড়াই চালিয়ে জয়ী হয়েছিলেন এক ধর্ষিতা। কিন্তু বিদেশিনি হওয়ায় ক্ষতিপূরণ পেতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। যে কারণে ফের তাঁকে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হয়। আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সমস্যা মিটেছে। নির্যাতিতাকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বারাসত শাখায় অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে আদালত। সেই কাজে তাঁকে সাহায্য করার জন্য ওই শাখার ম্যানেজারকেও বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১৬-র মে মাসে রাতে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি গাড়ির মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হন নেপালের ওই যুবতী। কাজের সন্ধানে শহরে এসেছিলেন তিনি। পার্ক স্ট্রিট থেকে বিধাননগরে গিয়েছিলেন কাজে। রাতে রাস্তা থেকেই তাঁকে গাড়িতে চাপিয়ে অপহরণ করে চার যুবক। ধর্ষণের পরে তাঁকে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় গত ফেব্রুয়ারিতে চার আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় বারাসত আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষিতাকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেন বিচারক।

কিন্তু, এর পরেই তৈরি হয় আর এক সমস্যা। যুবতীর আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল নেপালের নাগরিক হওয়ায় কলকাতায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেননি। যার জন্য ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির পক্ষে তাঁকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই অর্থ পেতে ওই যুবতী যাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, তার জন্য অনুমতি চেয়ে বারাসত আদালতে আবেদন করেন বিভাসবাবু।

সেই আবেদনের শুনানির ভিত্তিতে গত ৩ জুলাই বারাসত আদালত নির্দেশ দেয়, সামান্য টাকা জমা রেখে বা কোনও টাকা জমা না রেখেই (জিরো ব্যালান্স) ওই যুবতী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সেই অ্যাকাউন্ট এমন হতে হবে, যাতে তিনি দেশের বাইরে থেকেও তা ব্যবহার করতে পারেন। আবেদনের ভিত্তিতে মহিলাকে ডেবিট কার্ড দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

যুবতীকে আদালতের আরও নির্দেশ, পরিচয়পত্র হিসেবে তাঁকে ব্যাঙ্কের কাছে জমা দিতে হবে পাসপোর্ট এবং নেপাল সরকারের দেওয়া পরিচয় সংক্রান্ত নথি। একই সঙ্গে আদালত ওই ব্যাঙ্কের বারাসত শাখার ম্যানেজারকে নির্দেশ দিয়েছে, তিনি যেন যুবতীকে অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় যেন দেরি না হয়।

যুবতীর পরিচয় যাতে কোনও ভাবেই প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্য সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক, ব্যাঙ্কের ওই শাখার ম্যানেজারের কাছে গিয়ে মহিলার পরিচয় করিয়ে দেবেন ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির সম্পাদকের মনোনীত কোনও ব্যক্তি। তিনিও অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করবেন ওই যুবতীকে। ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির সম্পাদককে আদালতের নির্দেশ, অ্যাকাউন্ট খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ‘ভিক্টিম কমপেনসেশন স্কিমে’র ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দিতে হবে।