• পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নজরে ভোট, চিকিৎসার ঢালে বিজেপির ‘জনসংযোগ’

BJP
প্রতীকী ছবি

আমপানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে শাসক দল যখন নাস্তানাবুদ, ঠিক তখনই আমপান বিধ্বস্ত এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত মজবুত করার পন্থা নিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জনসংযোগ বাড়াতে  আমপান পরবর্তী সময়ে নিজেদের সব ক’টি চিকিৎসক সংগঠনকে তারা মাঠে নামিয়েছে। 

গত লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর কেন্দ্র থেকে বিজেপি-র চিকিৎসক প্রার্থী অশোক কাণ্ডারি তৃণমূলের প্রার্থীর কাছে প্রায় তিন লক্ষ ভোটে হেরেছিলেন। এই জেলায় এত দিনেও তেমন শক্তি বাড়়াতে পারেনি দল। এ বার বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসকদের দিয়েই সেখানে জায়গা পোক্ত করতে চাইছে বিজেপি। যার ফলে শুধু ওই জেলাতেই ৭৫টির মতো স্বাস্থ্য শিবির করে ফেলেছে। যার উদ্যোক্তা ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি মেডিক্যাল সেল’, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা সেল’, বিজেপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’, ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘপন্থী ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশন’। জেলার রায়দিঘি, সন্দেশখালি, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, নামখানা, গোসাবা, ক্যানিং, বাসন্তী—কোনও জায়গাই বাদ যায়নি। দূরবর্তী দ্বীপ ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিধ্বস্ত এলাকায় শিবিরগুলিতে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার মাঝেই কৌশলে চলছে বিজেপি সরকারের উন্নয়ন নিয়ে প্রচার, মানছেন সংগঠনের চিকিৎসকেরাই। সেই সঙ্গে ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে আলোচনাও থাকছে। বহু শিবিরেই বিজেপির ব্যানার, পতাকাও থাকছে।

তুলনায় পিছিয়ে তৃণমূলপন্থী চিকিৎসক সংগঠন। তারা এখনও পর্যন্ত ওই জেলায় ৩০টির মতো স্বাস্থ্য শিবির করেছে। বিজেপির ব্যাপক হারে চিকিৎসা শিবির করাকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সমর্থিত চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবি, বিজেপি যে  সেবার আড়়ালে দলীয় প্রচার চালাচ্ছে, এটা মানুষ বুঝেছেন। এতে বিরক্ত হয়ে বিজেপিকে আরও বর্জন করবেন তাঁরা।

তৃণমূলের চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেনের দাবি, ‘‘আমরা নীরবে মানুষের সেবা করি, রাজনীতি করি না। সাহায্যের নামে দলীয় প্রচারকে তৃণমূল ঘৃণা করে।’’ 

তিনি জানান, ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (আইএমএ)-এর রাজ্য শাখার সদস্যেরা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৮-২০টি স্বাস্থ্য শিবির করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর (পিডিএ) ডাক্তারেরা আইএমএ-র সঙ্গে মিলে শিবির করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেবা ও ত্রাণের কাজে তৃণমূলের নাম ব্যবহার হচ্ছে না। দলের চিহ্ন বা পতাকাও থাকছে না।’’

যার প্রেক্ষিতে বিজেপিপন্থী ‘ন্যাশনালিস্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সরকারের মন্তব্য, ‘‘যে হারে ওরা ত্রাণ দুর্নীতিতে জড়িয়েছে তাতে কোন মুখে দলীয় পতাকা বা ব্যানার ব্যবহার করবে! করলে মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ার ভয় আছে। আমরা বরং ওদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রত্যন্ত গ্রামে শিবির করে ওষুধ দিচ্ছি।’’ দলীয় সূত্রের খবর, জনসংযোগ গড়তে অনেক জায়গায় বিজেপির চিকিৎসকেরা সারা রাত গ্রামে থাকছেন, মানুষের খবর নিচ্ছেন, স্থানীয় চিকিৎসকদের হাতে ওষুধ দিয়ে আসছেন।

বিজেপির চিকিৎসক-সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি মেডিক্যাল সেলের প্রধান সুভাষ সরকারের কথায়, ‘‘শিবিরে চিকিৎসা করাতে এসে মানুষ শাসক দলের প্রতি নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, আমপানের প্রথম ৭২ ঘণ্টা পরে রাজ্যের তরফে সাহায্য তাঁরা পাননি। আমরা বলছি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষ ন্যায় পাবেন। কোনও দাদাকে কাটমানি দিতে হবে না।’’

এ ব্যাপারে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘‘এই জেলায় বিজেপিপন্থী চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য শিবির করছেন বলে তো কিছু শুনিনি। বিধায়ক বা কেউ আমাকে কিছু জানাননি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন