এক দিকে টানা বৃষ্টি, অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা। দুইয়ে মিলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল যানজটে ফাঁসল বি টি রোড-সহ উত্তর কলকাতার বেশ কিছুটা অংশ।

এ দিন সকালে টানা বৃষ্টির জেরে এমনিতেই বি টি রোড, কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণি-সহ শহরের উত্তর প্রান্তের বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ির গতি ছিল কম। ফলে অল্প-বিস্তর যানজট লেগেই ছিল। দুপুরে আকাশ খানিকটা পরিষ্কার হলেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। বরং মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলের জেরে বেশ কিছু ক্ষণ থমকে ছিল বি টি রোডের একাংশ। আর মিছিল যত শ্যামবাজারের দিকে এগিয়েছে, তত উত্তর কলকাতার মূল তিনটি রাস্তা— কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণি এবং চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে গাড়ির গতি স্তব্ধ হয়েছে।

যদিও খারাপ আবহাওয়া ও মিছিলের জন্য যানজট হতে পারে ভেবে তারাও আগাম প্রস্তুত ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাচক্রে এ দিন ভিড়ে আটকে পড়া অ্যাম্বুল্যান্সকে পথ করে দিতে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে বক্তব্য থামিয়ে পুলিশকে নির্দেশও দিতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে।

এ দিনের মিছিলের জমায়েতস্থল ছিল বি টি রোডের সিঁথির মোড়। ওই এলাকাটি কলকাতা পুলিশ এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সংযোগস্থল। পুলিশকর্তাদের দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী বি টি রোডের বিকল্প রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে পরিস্থিতি যথাসম্ভব সামাল দেওয়া হয়েছে। সিঁথির মোড়ে মঞ্চের সামনে তৃণমূল নেতা, কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হওয়ায় দুপুর দেড়টা থেকেই ওই রাস্তা দিয়ে শ্যামবাজারের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে স্কুলবাস-সহ বেশ কিছু গাড়ি আটকে পড়ে। শেষে ডানলপ ট্র্যাফিক গার্ডের তরফে কামারহাটি ও দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে আসা কলকাতামুখী গাড়িগুলিকে গোপাললাল ঠাকুর রোড দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু, বরাহনগরের ওই ঘিঞ্জি রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়তে থাকায় সেখানেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাস্তা থেকে বি টি রোডের সংযোগকারী রাস্তাগুলি ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকায় স্থানীয় গাড়িও সহজে বেরোতে পারেনি। পুলিশ জানায়, গোপাললাল ঠাকুর রোড দিয়ে যাওয়া কলকাতামুখী গাড়িকে কাশীপুর রোড হয়ে চিৎপুরের দিকে পাঠানো হয়েছিল। বিকেল তিনটে নাগাদ পদযাত্রা শুরু হতেই শ্যামবাজারমুখী বি টি রোড পুরো স্তব্ধ হয়ে যায়। মিছিল যে দিকে যাচ্ছিল, তার উল্টো দিকের রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি। শ্যামবাজারের দিকে যাওয়ার জন্য কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্সও ওই একমুখী রাস্তায় ঢুকে আটকে যায়।

কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে শ্যামবাজারের দিক থেকে ডানলপের দিকে গাড়ি যেতে দেওয়া হলেও মিছিল টালা সেতুর কাছাকাছি পৌঁছতে কিছু গাড়িকে কাশীপুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ঘিঞ্জি ওই রাস্তায় উভয় দিকে গাড়ি চলাচলের জেরে যানজট হয়। আবার মিছিল শ্যামবাজারে ঢুকতেই কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণি ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকে কোনও গাড়িকে পাঁচ মাথার মোড়ের দিকে আসতে দেওয়া হয়নি। তবে ব্যারাকপুর কমিশনারেট ছেড়ে মিছিল বেরিয়ে যেতেই সেখানকার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। অন্য দিকে, বিকেল পাঁচটা নাগাদ শ্যামবাজার থেকে ডানলপ পর্যন্ত 

উভয় দিকের রাস্তায় ধীরে ধীরে শুরু হয় যান চলাচল।