গায়ে গায়ে লাগানো বাড়ি। সামনেই গরুর খাটাল। শনিবার রাতে সেই বাড়িগুলির একটির বারান্দা থেকে খাটালে মুখের জল ফেলার ‘অপরাধে’ এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল তিলজলা রোডে। ঘটনায় জীবত রায় নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে তিলজলা থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ। জীবতের দাদা বিনোদ এবং তার সঙ্গীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত অবশ্য ওই যুবকদের গ্রেফতার করা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত তিনটে নাগাদ তিলজলা রোডের দুই বাসিন্দা বিজয় এবং বিনোদের মধ্যে ঝামেলার শুরু। বিজয় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। তিলজলা রোডে হনুমান মন্দির সংলগ্ন একটি চারতলা বাড়িতে থাকেন তিনি। পুলিশকে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, শনিবার রাতে বাড়ি ফিরে তিনি ঘরের বারান্দা থেকে মুখ ধুয়ে জল নীচে ফেলেন। তাঁর বাড়ির পাশেই বিনোদদের খাটাল। সেখানে কেন জল ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে চিৎকার শুরু করে বিনোদ। তার সঙ্গীরাও জড়ো হয়ে গালিগালাজ করতে থাকে বলে অভিযোগ। বিজয়ের অভিযোগ, এর পরে তাঁদের ঘর লক্ষ্য করে বিনোদ কাচের বোতল ছোড়ে। তখন ঘরে শুয়ে ছিল বিজয়ের দেড় বছরের ছেলে। কোনও মতে সে বেঁচে গেলেও ঘরের কাচ ভেঙে গিয়েছে।

ঘটনার পরে বিজয় এবং তাঁর ভাই রোমিও নীচে নেমে এলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিজয়ের স্ত্রী তিলজলা থানায় ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু অভিযোগ, রাতে পুলিশের সামনেই বিজয়কে মারধর করে বিনোদের ভাই জীবত। ফলে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। বিনোদ এবং তার সহযোগীরা অবশ্য চম্পট দেয়।

পুলিশের কাছে অভিযোগে বিজয় আরও জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করে ফেরার পরে তাঁকে লক্ষ্য করে বিনোদ এবং তার সঙ্গীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। বিজয় বলেন, ‘‘আমি আর আমার স্ত্রী সবে তখন পাড়ায় ফিরেছি। বিনোদের কয়েক জন সঙ্গী আমাদের ঘিরে ধরে। কোনও মতে আমি পালানোর চেষ্টা করলে দূরে দাঁড়িয়ে বন্দুক বার করে আমায় লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে।’’ গুলি অবশ্য বিজয়ের গায়ে লাগেনি। ওই সময়ে বিজয়ের ভাই রোমিও বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গুলি ছুড়তে দেখে তিনি চেঁচাতে শুরু করলে তাঁকে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পেয়ে তিলজলা থানা থেকে বিশাল বাহিনী গিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। যদিও বিনোদ এবং তার সঙ্গীদের ধরা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা পাড়ার পরিস্থিতি থমথমে। তিলজলা থানা থেকে সেখানে পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানাচ্ছেন, বিনোদেরা পাঁচ ভাই। এলাকায় তাদের খাটালের ব্যবসা রয়েছে। হাওড়াতেও খাটাল আছে তাদের। অভিযোগ, প্রায় প্রতি রাতেই খাটাল সংলগ্ন জমিতে বসে মদ্যপান করে বিনয় ও তার সঙ্গীরা। প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয়দেরও তাদের হাতে হেনস্থা হতে হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে বিনোদদের বাড়ি গেলে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।