রাজ্যের মুরগি খামারগুলিতে দামের বিশেষ হেরফের হয়নি। মাঘ মাসে বিয়ে ছাড়া অন্য উৎসবও বিশেষ নেই। অথচ কলকাতার বাজারগুলিতে ব্রয়লার মুরগির মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অধিকাংশ বাজারে কাটা মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ পোল্ট্রি ফেডারেশনের দাবি, এক কেজির উপরে জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগির পাইকারি যা দর, তাতে মাংসের দাম কেজি প্রতি ১৬০-১৭০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। এই প্রেক্ষিতে মাংসের দাম যাতে সাধারণের নাগালে থাকে, তা নিয়ে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে আবেদন জানাতে চলেছেন ফেডারেশনের কর্তারা।

পোল্ট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতির দাবি, কলকাতার বাজারে চাহিদা মেটানোর মতো মুরগি খামারগুলিতে রয়েছে। জোগানও আছে পর্যাপ্ত। সে দিক থেকে দেখলে দাম বাড়ার কথা নয়।

তা হলে দাম এত চড়া কেন? বিক্রেতাদের যুক্তি, লাভের ভাগ রেখে কাটা মাংস যে দামে বিক্রি করা উচিত, তাঁরা সেই দামই নিচ্ছেন। কলকাতার অধিকাংশ বাজার সমিতির সদস্যেরা জানাচ্ছেন, খুচরো ব্যবসায়ীরা তাঁদের পণ্য কী দামে বেচবেন, তা নিয়ে তাঁরা নির্দেশ দিতে পারেন না।

পোল্ট্রি শিল্পের হিসেবে বৃহত্তর কলকাতায় রোজ মুরগির মাংসের চাহিদা থাকে ১২-১৪ লক্ষ কেজি। দুই ২৪ পরগনা ছাড়াও হাওড়া, বর্ধমান, হুগলির খামারগুলি সেই চাহিদা মেটায়। ফেডারেশনের দাবি, চাহিদার থেকে ২৫ শতাংশ বেশি মুরগি খামারগুলিতে উৎপাদন হয়। ফলে উৎপাদনের অভাবে দাম বাড়ার যুক্তি ধোপে টেকে না।

তা হলে দাম বাড়ার কী কারণ? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।