গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া মেটানোর জন্য যাত্রীকে কার্ড সোয়াইপ মেশিন এগিয়ে দিয়েছিল অ্যাপ-ক্যাবের চালক। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও টাকা দেওয়া যাচ্ছে না দেখে চালকের কথা মতো ওই যাত্রী তাঁর ডেবিট কার্ডটি তাকে দিয়ে দেন। সঙ্গে বলে দেন ‘পিন’ও। কয়েক মিনিটের মধ্যে চালক যাত্রীকে কার্ড ফেরত দিয়ে জানায়, ভাড়া মেটানো হয়ে গিয়েছে।

গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ঢোকার কিছু ক্ষণের মধ্যেই ওই যাত্রী জানতে পারলেন, তাঁর ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে পাঁচ দফায় ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তখনই কার্ডটি খুঁটিয়ে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, আসল কার্ড বদলে চালক তাঁকে একটি ভুয়ো কার্ড দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাপ-ক্যাবের চালক আসল ডেবিট কার্ড হাতিয়ে ওই টাকা তুলে নিয়েছে বুঝতে পেরে রবিবার রাতে নারকেলডাঙা থানার দ্বারস্থ হন ক্যাবের যাত্রী, ৭৩ বছরের সোমনাথ ঘোষ। গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে চালককে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানান, ধৃতের নাম শ্রীকান্ত পোদ্দার। তার বাড়ি মানিকতলা মেন রোডে। ধৃতের থেকে ২০,০০০ টাকা এবং অভিযোগকারীর ডেবিট কার্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীকান্তকে দু’দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক।

এক তদন্তকারী অফিসার জানান, ওই চালক আগে এ ভাবে কোনও যাত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত দাবি করেছে, বাকি টাকা তার এক পরিচিতের কাছে রয়েছে।

পুলিশ জেনেছে, সোমনাথবাবু তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে সুকিয়া স্ট্রিটে বাড়ি যাওয়ার জন্য রবিবার ডি এল খান রোড থেকে অ্যাপ-ক্যাবটি বুক করেন। অভিযোগে বৃদ্ধ জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁরা বাড়ি পৌঁছন। চালক জানান, ১৫৬ টাকা ভাড়া হয়েছে। সোমনাথবাবু জানিয়েছেন, তাঁরা কার্ডে ভাড়া মেটাতে চাইলে চালক কার্ড সোয়াইপ মেশিনটি এগিয়ে দেয়। কিন্তু বৃদ্ধের ছেলে তন্ময় ঘোষ বারবার চেষ্টা করেও টাকা দিতে পারছিলেন না। তখনই আসরে নামে শ্রীকান্ত। সে তন্ময়ের থেকে কার্ডটি নিয়ে ‘পিন’ জেনে নেয়। অল্পক্ষণ পরেই ভাড়া মেটানো হয়ে গিয়েছে জানিয়ে একটি কার্ড ফিরিয়ে দেয়।

তদন্তকারীদের দাবি, তন্ময়ের হাতে অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পুরনো কার্ড ধরিয়ে দিয়েছিল চালক। যা খুঁটিয়ে দেখেননি তিনি। পরে সোমনাথবাবুরা মোবাইলে এসএমএস পান, তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০,০০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নামিয়ে শ্রীকান্ত মানিকতলা এবং নারকেলডাঙা এলাকার পাঁচটি এটিএম থেকে ওই টাকা তুলে নেয়। শেষে গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তের সন্ধান পায় পুলিশ।