নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে বেশি পড়ুয়া ভর্তি ঠেকাতে আসন-সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের অধীন ১৩১টি কলেজ অনার্স ও জেনারেলে কে কত আসনে ছাত্রছাত্রী ভর্তি নিতে পারবে, শুক্রবার তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত দু’বছর অনার্সে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও জেনারেলের ক্ষেত্রে সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এ বার আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল সব ক্ষেত্রেই।

এ দিনই কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তি জানান, কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির বিষয়ে একটি হেল্পলাইন খোলা হচ্ছে। হেল্পলাইন নম্বর: (০৩৩) ২২৪১-০৩৪৪, ২২৫৭-৩৩৭৬। ২৭ মে থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তা চালু থাকবে। রবিবার এবং অন্যান্য ছুটির দিন বাদ দিয়ে রোজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ভর্তির ওই হেল্পলাইন খোলা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ভর্তিতে দুর্নীতি আটকাতে এ বার থেকে ছাত্র সংগঠনের কোনও হেল্প ডেস্কের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। ফর্ম পূরণ থেকে ফি জমা দেওয়া— ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াই চলবে অনলাইনে। ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সাহায্য করার জন্যই হেল্পলাইনের বন্দোবস্ত হয়েছে।

নির্ধারিত সংখ্যার বাইরে ছাত্রছাত্রী ভর্তি আটকাতে এ বার রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তার ফলে নির্দিষ্ট আসনের বেশি পড়ুয়াকে রেজিস্ট্রেশন বা নথিভুক্ত করানো যাবে না। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কলেজে অতিরিক্ত পড়ুয়া ভর্তির অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও আসন খালিও পড়ে থেকেছে। কিছু ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে ভর্তির অভিযোগ ওঠে এবং সেই ঘটনায় শাসক দলের ছাত্রনেতাদের নামও জড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশন দিতে চায়নি। তা নিয়ে গোলমালও হয়।

বিভিন্ন কলেজে অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তি আটকাতে তাই এ বার আরও কড়া হতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ। কলেজগুলিতে বিএ, বিএসসি অনার্সে বিষয়ভিত্তিক আসন-সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিকম অনার্স এবং বিএ, বিএসসি, বিকম জেনারেলে আসন-সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে।