বাস থেকে পড়ে এক শিশু পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ রইল দমদমের নাগেরবাজার এলাকায়। দুর্ঘটনার পরই এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশ তাঁদের তুলতে গেলে বচসা ও হাতাহাতিতে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে বিকেলের  দিকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম অনুষ্কা কর (৫)। তার বাড়ি লেকটাউন এলাকায়। নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী সে। মঙ্গলবার সকালে ২২৩ নম্বর রুটের একটি বেসরকারি বাসে অনুষ্কাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার মা। বাস থেকে নাগেরবাজারে নামার পরই আচমকা গতি বাড়িয়ে দেন চালক। তার জেরে বাসটি অনুষ্কাকে পিষে দিয়ে চলে যায়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়াতেই বেপরোয়া বাস চালানোর প্রতিবাদে এ দিন নাগাগেরবাজার সংলগ্ন রাস্তায় বসে পড়েন অভিভাবকেরা। পুলিশ অবরোধ তুলে নিতে বললে, দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিভাবকরা দাবি করেন, প্রশাসন ক্ষমা না চাইলে, অবরোধ উঠবে না। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নাগেরবাজারে মা ও মেয়ে দু’জনেই বাস থেকে নামার পরই বাসের চালক কোনও কিছু না ভেবে আচমকা গতি বাড়িয়ে দেয়। তার জেরেই দুর্ঘটনা ঘটে। 

অবরোধকারীদের অভিযোগ, ওই এলকায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চলাচল করা সত্ত্বেও পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না। ফুটপাত দখল হয়ে গিয়েছে। হাটার রাস্তা নেই। সাধারণ মানুষের পথ নিরাপত্তার বিষয়ে সদর্থক কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অবরোধ চলবে বলে জানিয়ে দেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এক অভিভাবকের কথায়:  “এতদিন কোথায় ছিল প্রশাসন। ওই শিশুর প্রাণ গেল বেপরোয়াভাবে বাস চালানোর জন্যে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

আরও পড়ুন: সরছেন রাজীব কুমার, কলকাতার নতুন নগরপাল অনুজ শর্মা

আরও পড়ুন: পুলওয়ামার দায় অস্বীকার করে আলোচনার আহ্বান ইমরানের, সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনাতেও রাজি পাকিস্তান

অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ ওই রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।  তার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ধীর ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

(কলকাতা শহরের রোজকার ঘটনার বাছাই করা বাংলা খবর পড়তে চোখ রাখুন আমাদের কলকাতা বিভাগে।)