স্কুলে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান চলছিল। তার মধ্যেই স্কুল থেকে বেরিয়ে কখন যে গুটিগুটি পায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটি পুকুরে নেমে গিয়েছিল, খেয়াল করেননি কেউ। যখন খোঁজ মিলল, তখন আর দেহে প্রাণ ছিল না সাড়ে পাঁচ বছরের অর্কাভ সাহার। শুক্রবার, বারাসতের নবপল্লির এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা। পুলিশ স্কুলের অধ্যক্ষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের জন্য ‘উদ্দীপন অ্যাকাডেমি’ নামে ওই স্কুলটিতে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৬০। স্কুল সূত্রে খবর, এ দিন শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনও ভাবে বেরিয়ে পাশের পুকুরে নেমে যায় শিশুটি। বারাসতের চড়কডাঙার বাসিন্দা অনীশ ও মিতা সাহার একমাত্র সন্তান অর্কাভ রোজের মতোই সকালে স্কুলে গিয়েছিল। দুপুরে ছেলেকে আনতে যান মিতা। কিন্তু ছেলেকে দেখতে না পেয়ে শুরু হয় খোঁজ। আর এক অভিভাবক সঞ্জয় আচার্য বলেন, ‘‘ছেলেটা কী করে বেরিয়ে গেল তা দেখা তো দূর, উল্টে বলা হয়, অর্কাভ স্কুলেই আছে। এক জন দিদিমণি বাইরে ছুটোছুটি করছিলেন। কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করায় দরকার আছে বলে তিনিও এড়িয়ে যান।’’

অর্কাভ স্কুলে নেই জানাজানি হতেই বাইরেও খোঁজ শুরু হয়। কাছেই এক বাড়িতে কর্মরত রাজমিস্ত্রিরা জানান, পুকুরে কিছু পড়ার শব্দ শুনেছিলেন। পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, জলে ভাসছে শিশুটির দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান, আগেই মৃত্যু হয়েছে অর্কাভের।

এর পরেই থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তবে অধ্যক্ষ কেয়া ঘোষ বলেন, ‘‘ছুটির পরে অর্কাভ যে মায়ের সঙ্গে না গিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে তা নজরে না রাখার জন্যই এই বিপদ হল।’’ মিতার পাল্টা অভিযোগ, ‘‘যখন ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্কুল জানিয়েছিল ও স্কুলেই আছে। ওরা ভুল তথ্য না দিলে একটু আগে খোঁজ শুরু হত। তা হলে হয়তো ছেলেটাকে বাঁচানো যেত।’’