• চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভাঙা উড়ালপুলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই

Vivekananda Flyover
বিপর্যয়: ভেঙে পড়ার পরে পোস্তার বিবেকানন্দ উড়ালপুল। ফাইল চিত্র

মাঝেরহাট সেতু ভেঙে পড়তেই ফের মাথাচাড়া দিয়েছে সেই প্রশ্ন। পোস্তার বিবেকানন্দ উড়ালপুলের ভবিষ্যৎ কী? উত্তর অবশ্য এখনও জানা নেই কারও। কারণ, জট কাটেনি ওই উড়ালপুল নিয়ে। সূত্রের খবর, বিবেকানন্দ উড়ালপুলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞ সংস্থাই আর দায়িত্ব নিতে চাইছে না। যা চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনের।

রাজ্য সরকার চেয়েছিল, ভেঙে পড়া ওই উড়ালপুলটি পুরো ভেঙে ফেলা হবে, না কি নতুন করে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বেসরকারি কয়েকটি বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তার জন্য রীতি মেনে দরপত্রও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কোনও সংস্থা সে ভাবে আবেদন করতে আগ্রহ দেখায়নি বলেই সূত্রের দাবি। ফলে, ওই উড়ালপুলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পুরো কাজ ঘিরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক কর্তাদের আশা, এই সমস্যা মিটে যাবে শীঘ্রই।

বিবেকানন্দ উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পরে সেটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা স্থির করার জন্য আইআইটি খড়্গপুরকে দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। ওই উড়ালপুলের নকশা, নির্মাণ বা সে কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। সূত্রের দাবি, উড়ালপুলটিকে ভেঙে ফেলা হবে, না কি গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও দিশা দেখানো ছিল না সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে। ফলে অত বড় সিদ্ধান্ত নিতে বেশ ফাঁপরে পড়েন প্রশাসনিক কর্তারা। একটি রিপোর্টের উপরে নির্ভর করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে অপর একটি বিশেষজ্ঞ সংস্থা নিয়োগের চিন্তাভাবনা শুরু হয় তখন থেকে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় কোনও বেসরকারি বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও খবর: এক বছর অবহেলায় আটকে মাঝেরহাটের ৩ কোটির সংস্কার

প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশের অনুমান, কোনও বিশেষজ্ঞ সংস্থা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় নিতে চাইছে না। তাঁদের যুক্তি, যে এলাকার উপর দিয়ে উড়ালপুলটি গিয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি। বহু পুরনো বাড়ি রয়েছে উড়ালপুলের পাশে। অত বড় একটি কাঠামো ভেঙে ফেলার অভিঘাত সেই বাড়িগুলি সহ্য করতে পারবে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। উল্টো দিকে, যদি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নতুন করে গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। কারণ, গোটা কাঠামোটা কতটা ভার বহনে সক্ষম বা কোথায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব নয়। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নিলে শেষে তার দায় বহন করতে হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহে রয়েছেন অনেকেই।

আরও খবর: হাঁটতে গিয়েও গর্তে পড়তে পারি, মন্ত্রী বিঁধলেন বিরোধীদের

যদিও প্রশাসনের অপর একটি অংশ এই যুক্তি মানতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়টিতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। বরং উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ সংস্থার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত। সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে ফের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তবে মাঝেরহাট সেতুর সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরে সেই কাজ কতটা দ্রুত করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে প্রশাসনের অন্দরেই।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন