• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনা আক্রান্ত স্টার্টার, বাস বন্ধ ২১১ রুটের

Disinfectant
সতর্ক: চলছে জীবাণুনাশের কাজ। বৃহস্পতিবার, রাজারহাটে। নিজস্ব চিত্র

স্টার্টারের করোনা ধরা পড়ায় গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে আহিরীটোলা থেকে খড়িবাড়ি পর্যন্ত ২১১ নম্বর বাস রুট। উত্তর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওই রুট অরবিন্দ সেতু, উল্টোডাঙা রেল স্টেশন, লেক টাউন, ভিআইপি রোড, রাজারহাট হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার খড়িবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিদিন ৭৬টি বাস চলে।

কম-বেশি ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই বাসরুটে খড়িবাড়ি, পাথরঘাটা, রাজারহাট এবং আহিরীটোলায় চারটি বাস গুমটি রয়েছে। ভোর সাড়ে চারটে থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ১৪ জন স্টার্টার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বাসের টিকিট এবং সময়সারণি সংক্রান্ত কাজকর্ম দেখাশোনা করেন।

তাঁদের মধ্যে রাজারহাটের বাসিন্দা এক স্টার্টার গত রবিবার আহিরীটোলার গুমটিতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পরে জ্বরে আক্রান্ত হন। পরের দিন চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি ওই স্টার্টারকে করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দেন। মঙ্গলবার তাঁর রিপোর্টে সংক্রমণের প্রমাণ মিলতেই বাসচালক ও কন্ডাক্টরদের একাংশ আতঙ্কিত হন। ওই স্টার্টার আহিরীটোলায় শেষ কাজ করার আগে রাজারহাটের বাস গুমটিতেও দায়িত্ব সামলেছেন বলে খবর।

সারা দিন ধরে গুমটির দায়িত্ব সামলানো স্টার্টারদের সকলকেই কাজের প্রয়োজনে বাসচালক, কন্ডাক্টর ছাড়াও অসংখ্য যাত্রীর সংস্পর্শে আসতে হয়। স্বভাবতই ওই স্টার্টারের সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার অল্প কিছু বাস চললেও বুধ এবং বৃহস্পতিবার ওই রুটের একটিও বাস চলেনি। উত্তর কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ ওই বাসরুট বন্ধ থাকায় বহু যাত্রী সমস্যায় পড়েন।

মঙ্গলবার করোনা সংক্রমিত ওই স্টার্টারকে প্রথমে নিউ টাউনের কোয়রান্টিন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সে দিনই তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে বাসমালিক সংগঠন সূত্রের খবর।

পরিস্থিতি সামলাতে ওই রুটের বাসমালিক সংগঠনের নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার কসবায় পরিবহণ দফতরের সহ-অধিকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, ওই স্টার্টারের চিকিৎসার ব্যবস্থা ছাড়াও রুট সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ দিন খড়িবাড়ি, পাথরঘাটা, রাজারহাট এবং আহিরীটোলার চারটি বাসগুমটিকেই স্যানিটাইজ় করা হয়েছে। ওই রুটের বাসমালিক সংগঠনের সহ-সম্পাদক রঞ্জিত ঘোষ বলেন, ‘‘আজ , শুক্রবার থেকে কয়েকটি বাস চলা শুরু করতে পারে। সোমবার আশা করছি বেশির ভাগ বাসই চালু হবে।’’

সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে মাস্ক, স্যানিটাইজ়ার, এবং গ্লাভস ব্যবহার করার প্রশ্নে সচেতন করা ছাড়াও বাসকর্মীদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য বিমার দাবি জানিয়েছেন রঞ্জিতবাবু।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন