• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

লকডাউনে কড়া হাতেই শহর শাসন পুলিশের 

Lockdown
প্রহরী: এক মোটরবাইক আরোহীকে ধমক পুলিশকর্মীর। মঙ্গলবার, আমহার্স্ট স্ট্রিটে। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী

তিনি চিকিৎসক। হাসপাতালে যাচ্ছেন। এ ভাবেই লাল গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন মুখে মাস্ক আঁটা প্রৌঢ়। পুলিশকর্মীরা গম্ভীর মুখে তাঁকে পরিচয়পত্র দেখাতে বললেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটায় এ দৃশ্য দেখা গেল চিৎপুর রোডে।

লকডাউনের কলকাতাকে জনশূন্য রাখতে এ ভাবেই চেষ্টা চলল সকাল থেকে রাত। শুধু বড় রাস্তা নয়, অলিগলিতেও ছিল মুখে মাস্ক আঁটা পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি। শহরবাসীর চেনা অভ্যাস বদলাতে বহু ক্ষেত্রেই কড়া হতে হয়েছে পুলিশকে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০০৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মোটামুটি চার জনের বেশি লোকের ভিড় দেখলেই ব্যবস্থা নিতে হবে— এই নীতি নিয়েই শহরবাসীকে সামলাতে পথে নেমেছিল পুলিশ। সিএএ-বিরোধী ধর্নায় আর স্লোগানে স্লোগানে সরগরম পার্ক সার্কাসের মাঠের ছবিটাও অন্য রকম ছিল এ দিন সকালে। পার্ক সার্কাসের মাঠের তিনটি গেট ছিল বন্ধ। সামনের গেটে পাহারায় ছিল পুলিশ। ভিতরে কার্যত জনশূন্য ধর্না মঞ্চে অবস্থানকারীরা অনেকে নিজেদের নাম লিখে গিয়েছেন। সকালের দিকে অবশ্য শহরের বেশ কয়েকটি পাড়ায় বাজার খুলেছিল। কয়েকটি এলাকায় চা-জলখাবারের দোকানগুলিকে কিছু ক্ষণ ছাড় দেয় পুলিশ। অ্যাপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহকারী ডেলিভারি বয়দেরও বিক্ষিপ্ত ভাবে দেখা গিয়েছে। পুলিশের দাবি, খাবার কেনা বা বাজার করার মতো প্রয়োজন মিটিয়ে মানুষ যাতে তাড়াতাড়ি সরে যান, সে দিকেই খেয়াল রাখা হয়েছিল।

আমহার্স্ট স্ট্রিটে পুলিশের সঙ্গেই রাস্তার মোড়ে গাড়ি পরীক্ষা করছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। জরুরি পরিষেবার কর্মী, পরিচিত এক জনকে দেখে তিনি হাত মেলাতে যেতে পুলিশই বোঝাল, ‘‘এখন কিছু দিন দূর থেকে নমস্কার করাটাই কিন্তু ভাল।’’ লেক মার্কেটের গলিতে আড্ডা-জমায়েত ভাঙতে পুলিশকে লাঠির ভয় দেখাতে হয়েছে। এ দিন তালাবন্ধ ছিল শিয়ালদহ স্টেশন। বাইরে ছিলেন কয়েক জন মাস্ক বাঁধা রেলরক্ষী। তবে ওষুধের দোকানে ছিল দীর্ঘ লাইন। পুলিশের ইঙ্গিত, পাড়ার আড্ডা বা রাস্তায় ক্রিকেট দেখলে দরকারে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন