কলকাতায় থেকে পড়াশোনা করতেন মেয়ে। পরীক্ষা চলায় মাকে বলে রেখেছিলেন, তিনি যেন ফোন করে সকালে ডেকে দেন। সেই মতো সুদূর ত্রিপুরা থেকে মা ফোন করছিলেন। কিন্তু একাধিক বার ফোন করেও মেয়ের সাড়াশব্দ পাননি। শেষে কলকাতার ওই বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান তিনি। মালিক এসে ওই ছাত্রীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখেন। মঙ্গলবার যাদবপুরের বাপুজিনগরের একটি বাড়ি থেকে এ ভাবেই উদ্ধার হল এক তরুণীর দেহ। মৃতার নাম অদিতি ভট্টাচার্য (২২)। ত্রিপুরার বাসিন্দা ওই 
তরুণী বাপুজিনগরের ওই বাড়িতে পেয়িং গেস্ট থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সল্টলেকের একটি বেসরকারি কলেজে কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন অদিতি। তাঁর চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। সোমবার রাত পৌনে ২টো নাগাদ মায়ের সঙ্গে কথা হয় অদিতির। মঙ্গলবার পরীক্ষা থাকায় মাকে তিনি বলেছিলেন, তিনি যেন সকালে ফোন করে তাঁকে ডেকে দেন। সেই মতো এ দিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ অদিতিকে বারবার ফোন করেন মা। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। বাধ্য হয়ে ঘটনাটি বাড়ির মালিককে জানান ওই মহিলা। মালিক এসে দেখেন, অদিতির ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। কিন্তু পিছনের জানলা খোলা রয়েছে। তিনি ওই জানলার কাছে গিয়ে দেখেন, ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে অদিতির দেহ।

ওই তরুণীর বাবা মৃণালকান্তি ভট্টাচার্য পেশায় ত্রিপুরা পুরসভার কর্মী। মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে এ দিনই কলকাতায় আসেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। মৃণালকান্তিবাবু বলেন, ‘‘সোমবার রাতেও মায়ের সঙ্গে মেয়ের কথা হল। তখনও কিছু বুঝিনি।’’ পুলিশ জেনেছে, অদিতি যে কলেজের ছাত্রী ছিলেন, সেখানকারই এক প্রাক্তন পড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হত। তবে মৃতার পরিবারের তরফে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েনি। এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।’’