গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক মোটরবাইক চালকের। আহত হয়েছেন দুই মোটরবাইক আরোহী। শনিবার রাত এগারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুর রোডে। চালক ও আরোহী কারও মাথায় হেলমেট ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, একবালপুরের বাসিন্দা ওই তিন যুবক সেই রাতে মোটরবাইক নিয়ে আলিপুরে একটি পেট্রোল পাম্পে তেল ভরতে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, আলিপুর রোড দিয়ে যাওয়ার সময়ে মোটরবাইকটির পিছনে একটি গা়ড়ি ধাক্কা মারে। চালক-সহ দুই আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে একবালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাইকচালক সফিক হোসেনকে (১৮) সেখানেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আহত দুই যুবক আব্দুল নওয়াব ও সইফান আলিকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, হেলমেট ছা়ড়াই চালক দ্রুত গতিতে মোটরবাইক চালাচ্ছিলেন। সেই সময়ে গা়ড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছন থেকে মোটরবাইকটিতে ধাক্কা মারে। ঘটনার পরেই গাড়িটি নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান চালক। মোটরবাইকটি আটক করেছে পুলিশ। গাড়িটির চালকের পরিচয় না জানা গেলেও, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘাতক গা়ড়ির খোঁজে চলছে তল্লাশি।

এ দিকে, প্রশাসন বারবার হেলমেট পরে গা়ড়ি চালানোর পরামর্শ দিলেও তা যে মানা হচ্ছে না, শনিবার রাতের ঘটনায় ফের তার প্রমাণ মিলেছে। পুলিশের নজর এড়িয়ে হেলমেট ছাড়াই বাইক নিয়ে চলাফেরা কী ভাবে চলছে শহরের পথে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হেলমেটহীন চালক বা আরোহীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন, উঠছে সে প্রশ্নও। এ প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘নিয়মমতো হেলমেটহীন চালকদের জরিমানা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওই চালক এবং আরোহীরা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়েই যাচ্ছিলেন।’’ ওই কর্তার আরও বক্তব্য, নিজের জীবনের স্বার্থে চালক এবং আরোহীদের হেলমেট পরার মানসিকতা না তৈরি হলে শুধু আইন করে লাভ হয় না।