প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে পথ দেখাল একটি ওয়ার্ড কমিটি। সেখানে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাসিন্দাদের কাপড়ের ব্যাগ দেওয়া হল। এ বার ওয়ার্ড এলাকায় ৫০ মাইক্রনের কম প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে অভিযান শুরু করতে চলেছে বিধাননগর পুরসভার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি। তবে এই প্রচেষ্টা আপাতত একটি ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ। বাকি ওয়ার্ডগুলি সেই পথে হাঁটবে কি না, তার অবশ্য কোনও স্পষ্ট রূপরেখা জানাতে পারেনি পুরসভা।

তবে পুর কর্তৃপক্ষ জানান, বিকল্পের ব্যবস্থা না করে প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করলে বাসিন্দাদের সমস্যা বাড়বে। তাই এখন সে বিষয়েই পরিকল্পনা  চলছে। সোমবার সল্টলেকের বিডি প্রেক্ষাগৃহে এক অনুষ্ঠানে বাসিন্দা ও দোকানিদের হাতে কাপড়ের ব্যাগ তুলে দেন পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় জানান, ওই কাপড়ের ব্যাগ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও দোকানিদের এই ব্যাগ এক বার দেওয়া হবে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া, একটি আউটলেট করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যেখানে ওই কাপড়ের ব্যাগ থাকবে। 

কাপড়ের ব্যাগ দেওয়ার পাশাপাশি দোকানে ও বাজার এলাকায় সচেতনতার প্রচার এবং নজরদারি চালানো হবে বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর। তার পরেও সরকারি নির্দেশিকা ভঙ্গ করে ৫০ মাইক্রনের কম পুরু প্লাস্টিক ব্যবহার করলে পুর আইন মোতাবেক পদক্ষেপ করতে পুরসভায় আবেদন করা হবে বলে জানান কাউন্সিলর।

যদিও বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটি ওয়ার্ডে এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। তা হলে বাকি জায়গায় কী হবে? অন্যান্য এলাকায় যদি কোনও পদক্ষেপ করা না হয়, তবে এই প্রকল্পের কি কোনও ভবিষ্যৎ আছে? প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

যদিও মেয়র সব্যসাচী দত্ত জানিয়েছেন, ৫০ মাইক্রনের কম মোটা প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে পুরসভা। তবে বিকল্পের ব্যবস্থা না করে প্লাস্টিক বন্ধ করা মুশকিল। তাই বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। 

পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এমন প্রচেষ্টা একটি ওয়ার্ডেই নয়, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক।’’