মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার দমদমের সুভাষনগরে দুষ্কৃতীদের উপদ্রবের মুখে পড়লেন বাসিন্দারা। রবিবার রাতে সাহস করে দু’জন দুষ্কৃতীকে ধাওয়াও করেন তাঁরা। 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার গভীর রাতে। সুভাষনগরের মৌচাক মোড়ের কাছে ওই রাতে একটি বহুতলের দোতলার ফ্ল্যাটে চুরি হয়। বহুতলের অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বজিৎ মোদক জানান, কোল্যাপসিব্‌ল গেটের তালা ভেঙে প্রথমে দোতলায় রজন সাহার বাড়িতে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। ফ্ল্যাট খালি ছিল। এর পর সুনীলকান্তি দাস নামে এক বৃদ্ধের ফ্ল্যাটেরও তালা ভাঙে দুষ্কৃতীরা। ওই বৃদ্ধের কথায়, ‘‘আমার ফ্ল্যাটের দু’টি তালা ভাঙার পরে যে ঘরে শুয়েছিলাম, সেটির তালা ভাঙার চেষ্টা হয়। তবে ঘরে আছি বুঝতে পেরে চোরেরা পালায়।’’ দোতলায় অন্য দু’টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের দাবি, বৃদ্ধের বাড়ির ফ্ল্যাটের তালা যে দুষ্কৃতীরা ভাঙছে তা ‘আই হোল’ দিয়ে তাঁরা দেখেছেন।

ওই বহুতলের অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি শুভাশিস রায় জানান, বছরখানেক ধরে ওই এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। শনিবার রাতের ঘটনার পরে তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলেই জানান বাসিন্দারা। পাড়ার লোকজন জানান, রবিবার চন্দন দে নামে এক জনের বাড়ির পিছনের গলি দিয়ে দুই দুষ্কৃতীর যাতায়াতের খবর পেয়ে তাঁরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করে ধরার চেষ্টাও করেন। বিশ্বজিতের কথায়, ‘‘পাড়ায় চোরের উপদ্রব যে ভাবে বেড়েছে তাতে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে। 

তাই বিপদ হতে পারে জেনেও দুষ্কৃতীদের পিছু নিয়েছিলাম। সিসি ক্যামেরা লাগানো, আলো বাড়ানোর পাশাপাশি নৈশপ্রহরী রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’’

শনিবারের ঘটনার প্রেক্ষিতে দমদম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, পার্শ্ববর্তী থানা এলাকার দুষ্কৃতীরা ওই কাজ করছে। ঘটনার পরে ওই এলাকায় টহলদারি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ।