প্রায় বছর খানেক ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে রেল বোর্ডের ছাড়পত্র পেল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর রেক। তবে পুরোদস্তুর পরিষেবা শুরু করার আগে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে রেলওয়ে সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে আরও দু’টি বিষয়ে ছাড়পত্র পেতে হবে। তার মধ্যে একটি হল মেট্রোর সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অন্যটি স্টেশনগুলির সুরক্ষার মান সংক্রান্ত বিষয়ে। 

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সূত্রের খবর, প্রায় এক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নানা পর্ব পেরিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষ ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো সংক্রান্ত ক্ষেত্রে রেল বোর্ডের ওই গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্র পেলেন। শুক্রবার ওই ছাড়পত্র মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। রেলের নিজস্ব গবেষণা সংস্থা রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশনের (আরডিএসও) গুণমান সংক্রান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে রেলওয়ে সেফটি কমিশনার বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডের কারখানায় তৈরি রেকগুলির সুরক্ষা সংক্রান্ত মান খতিয়ে দেখেন। পরে গত মার্চ মাসে রেকগুলি পরীক্ষা করে দেখেন, ভারত সরকারের ইলেকট্রিক্যাল ইনস্পেক্টর জেনারেলের প্রতিনিধি। সব রিপোর্ট খতিয়ে দেখে ওই রেকগুলি চালানোর বিষয়ে ছাড়পত্র  দিয়েছে রেল বোর্ড। 

রেল বোর্ডের দেওয়া ছাড়পত্র অনুসারে রেকগুলি সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে চালানো যাবে। এ প্রসঙ্গে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এক কর্তা জানান, রেক সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার ফলে পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল। সিগন্যালিং সংক্রান্ত ছাড়পত্র পেতে এক হাজার ঘণ্টা ধরে বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ওই পরীক্ষা মিটলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা যাবতীয় ফলাফলের রিপোর্ট একটি ফরাসি সংস্থাকে জমা দেবে। ওই বিশেষজ্ঞ সংস্থা যাবতীয় ফলাফল খতিয়ে দেখে ছাড়পত্র দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত পরিদর্শনের জন্য আবদেন করবেন। জুন মাসের মাঝামাঝি রেলওয়ে সেফটি কমিশনারের পরিদর্শনে স্টেশন এবং সিগন্যালিং পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে, তার পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ট্রেন চলাচল শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে।