কোথাও এয়ারওয়াকার, লেগপ্রেস, কোথাও আবার ক্রসট্রেনার। নিউ টাউনের বিভিন্ন বাসস্টপের আশপাশে বসানো হয়েছে এমনই সব শারীরচর্চার যন্ত্র। বিশ্ববাংলা সরণির ধারে বসানো এই সব যন্ত্র চোখ টেনেছে নিউ টাউনে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও পথচারীদের। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে শুধু না থেকে অনেক সময়েই এই সব যন্ত্রে ‘গা ঘামিয়ে’ নিচ্ছেন তাঁরা। 

নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ) সূত্রের খবর, গত জানুয়ারি থেকে বিশ্ব বাংলা গেটের উল্টোদিকে রাস্তার পাশে ধাপে ধাপে এমন গোটা দশেক শারীরচর্চার যন্ত্র বসানো হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষকে শারীরচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতেই এই উদ্যোগ। এনকেডিএ-র এক কর্তার কথায়, ‘‘মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও সচেতনতার প্রয়োজন। তাই ব্যস্ততার মধ্যে কিছু ক্ষণের জন্যে হলেও শারীরচর্চা নিয়ে মানুষকে সচেতন করতেই এই পদক্ষেপ।’’ 

আদৌ কি এ ভাবে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব? নিউ টাউনে কর্মরত এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী নীলাঞ্জন সিংহ বলছেন, ‘‘ব্যায়াম করার সময় পাই না। তবে অফিস থেকে বেরোনো কিংবা টিফিন টাইমে বাইরে বেরিয়ে ওই যন্ত্র ব্যবহার করেছি। খানিকটা গা ঘামিয়ে হালকা লাগে। ক্লান্তিও কিছুটা দূর হয়।’’ আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে যেখানে জিমে যাওয়ার সময় পাওয়া যায় না, সেখানে চলার পথে কিছুক্ষণের জন্য গা ঘামানোর এই সুযোগটুকুর সদ্ব্যবহার করছেন অনেক পথচারীই। কিন্তু প্রশিক্ষক ছাড়া এই যন্ত্রগুলি ব্যবহার করা কতটা যুক্তিযুক্ত? এনকেডিএ-র এক কর্তা জানাচ্ছেন, শারীরচর্চার এইসব যন্ত্রগুলি অত্যন্ত প্রচলিত এবং সাধারণ সরঞ্জামের মধ্যেই পড়ে। তাই প্রশিক্ষক ছাড়াই সেগুলি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন যে কোনও ব্যক্তি। কিন্তু রাস্তার পাশে থাকা এই সব যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ কী ভাবে হবে, উঠছে সেই প্রশ্নও। এনকেডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওইসব যন্ত্রের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। 

তবে শুধু যন্ত্র বসানোই নয়, সুস্থ থাকতে এলাকায় খেলাধূলার ব্যবস্থা করার কথা বলছেন স্থানীয়েরা। ছোটদের জন্য নিউ টাউনের ব্লক এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির দাবি জানিয়েছেন অনুপম ঘোষ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এনকেডিএ সূত্রে জানানো হয়েছে, ব্লক এলাকায় খেলার জায়গার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।