• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

তেলের গুদামে আগুনে আতঙ্ক

Fire
অগ্নি-যোগ: ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের গুদামে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। সোমবার। ছবি: সুমন বল্লভ

তেলের গুদামে আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়াল ক্যানাল ওয়েস্ট রোডে। সোমবারের এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলেই পুলিশ সূত্রের খবর। ঘণ্টা দেড়েকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। 

পুলিশ ও দমকল সূত্রের খবর, এ দিন ভোরে আগুন লেগেছিল ক্যানাল ইস্ট রোডের ছাগলপট্টি এলাকায়। সেখানকার ২৫টিরও বেশি ঝুপড়ি পুড়ে যাওয়া নিয়ে যখন শোরগোল চলছে, তখনই চার নম্বর ক্যানাল ওয়েস্ট রোডের ওই গুদামে আগুন লাগে বলে খবর ছড়ায়। একটি তেলের গুদামে আগুন লেগেছে বলে নারকেলডাঙা থানায় খবর যায়। পুলিশই বেলা ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ দমকলে খবর দেয়। প্রথমে ঘটনাস্থলে যায় দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন। আগুন বাড়তে থাকায় পরে পাঠানো হয় আরও চারটি ইঞ্জিন। 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, খালের ধারে পরপর দাঁড়িয়ে রয়েছে দমকলের গাড়ি। সেখান থেকেই ‘রিলে’ পদ্ধতিতে জল দেওয়া হচ্ছে ওই গুদামে। ঘণ্টাখানেক ধরে আগুনের হলকা বেরোতে দেখা যায় ঘটনাস্থল থেকে। এর পরে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও জায়গায় জায়গায় চাপা আগুন বেশ কিছু ক্ষণ ছিল। ওই সময়ে রাস্তায় নেমে আসেন আশপাশের বাড়ির লোকজন।

এলাকার এক বাসিন্দা বললেন, “এক সময়ে জানলা দিয়ে এমন আগুন বেরোতে দেখা যাচ্ছিল যে, মনে হচ্ছিল, আশপাশের বাড়িতেও ধরে যাবে। পাড়ার কয়েকটি ছেলে মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পারছিল না।” ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক দমকল আধিকারিক বলেন, “দোতলা ওই গুদামের একতলায় বোতলবন্দি নারকেল তেল রাখা হত। দোতলায় থাকত কাগজের রোল। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, ওই তেলের গুদামেই শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরেছিল। উপরে কাগজের রোল থাকায় দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।” দমকল সূত্রের খবর, ওই গুদাম থেকে আশপাশের কয়েকটি গুদামেও এ দিন আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, ওই গুদামটিতে কোনও রকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি, আগুন লাগার পরে সেখানকার কোনও নিরাপত্তারক্ষীরও খোঁজ মিলছিল না বলে স্থানীয়দের দাবি। দমকলের তরফে পুলিশকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানানো হচ্ছে।

নারকেলডাঙা থানা সূত্রের খবর, গুদামের মালিকের খোঁজ চলছে। আপাতত গুদামটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু থানা থেকে কয়েকশো মিটারের মধ্যেই এ ভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়া গুদাম ছিল কী করে? এ প্রশ্নের অবশ্য উত্তর মেলেনি পুলিশের কাছে। নিতাই রাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, “খোঁজ করলে খালের পাড়ে এমন অনেক কিছুই পাওয়া যাবে। কয়েক হাত ঘোরা এই গুদামগুলির মালিক আসলে যে কে, তা জানা যায় না। নির্দিষ্ট মালিক না থাকায় অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থাও থাকে না!”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন