আচমকা আগুন লেগে পুড়ে গেল একটি এসি গাড়ি। সোমবার দুপুরে, নিউ আলিপুরের সাহাপুর রোডে। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

পুলিশ জানায়, এ দিন দুপুর সওয়া দুটো নাগাদ বাটানগর থেকে চিকিৎসককে দেখিয়ে নিজের গাড়িতেই বাড়ি ফিরছিলেন টালিগঞ্জের বাসিন্দা বিশ্বরঞ্জন ঘোষ। তাঁর গাড়িচালক রাজু মজুমদার জানান, চলন্ত অবস্থাতে আচমকাই গাড়ির পিছন থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। তৎক্ষণাৎ তিনি গাড়ি থামিয়ে বিশ্বরঞ্জনবাবুকে নামিয়ে আনেন। চারদিক কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। তা দেখে আশপাশের লোকজনও ছুটে আসেন। সকলে মিলে গাড়ির ব্যাটারির কেব্‌ল কেটে দিলেও আগুনের হাত থেকে বাঁচানো যায়নি গাড়িটিকে। ঘটনার প্রায় আধ ঘণ্টা পরে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। তত ক্ষণে অবশ্য গাড়িটি পুরো জ্বলে গিয়েছে। দমকল দফতরের অধিকর্তা অভিজিৎ পাণ্ডে বলেন, ‘‘যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে সদর কার্যালয় থেকে ইঞ্জিন যাওয়ার কথা। দূরত্ব অনেকটা হওয়ায় সময় লেগেছে।’’

মাঝেরহাট ব্রিজের কারণে এমনিতেই ওই রাস্তায় গাড়ির অত্যাধিক চাপ থাকে। তার মধ্যে রাস্তার মাঝে গাড়িতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়ায়। এর জেরে যানজট হয়। অনেকে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তায় যাওয়ারও চেষ্টা করেন। ১০০ ডায়ালের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাত্র দু’বছর আগে কেনা গাড়ি চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখে তখন স্তম্ভিত বেসরকারি সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বরঞ্জনবাবু। তিনি বলেন, ‘‘খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। গাড়ি থেকে নামতেই পারছিলাম না। রাজু কোনও ভাবে দরজা খুলে বার করে।’’ ঘটনার পরে পুলিশের সঙ্গে থানায় যান ওই ব্যক্তি। পরে তাঁর ছেলে এসে বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বরঞ্জনবাবুকে।