কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্ত প্রায় তিন হাজার ছুঁইছুঁই। রোজই সেই সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই এই রোগে ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। ২০১১-’১২ সালের পরে এ বার ফের ডেঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পুরকর্তারা। অবস্থার পর্যালোচনায় আজ, শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে নিয়ে পুর ভবনে বৈঠক করবেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। পুর স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ ডেঙ্গি দমনে পুরসভা কী করেছে, কোন কোন দিকে সমস্যা রয়েছে— সেই সব তুলে ধরবেন বলে পুর স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক বছরে ডেঙ্গি নিয়ে তেমন বেগ পেতে হয়নি কলকাতা পুর প্রশাসনকে। এ বছর অবশ্য চিত্রটা বেশ খারাপ। ডেঙ্গি দমনের কাজে জোর দিতে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী স্কুলে বিক্ষোভও দেখান অভিভাবকেরা। এ সব কারণেই ভাবনা বাড়ছে রাজ্য প্রশাসনের। সম্প্রতি রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যাসচিব হয়েছেন সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। তাঁর সঙ্গে আজকের বৈঠকে যোগ দেবেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীও।

বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার অতীনবাবু বলেন, ‘‘সচেতনতার কাজে প্রচারের উপরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেটা মাথায় রেখে গত বছর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রচারের জন্য একটি করে মাইকের সেট কিনে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার ঠিক ব্যবহার হয়নি।’’ এ ব্যাপারে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। অতীনবাবুর কথায়, ‘‘এক বছরের মধ্যে মাইকের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। এখন বারবার বলায় তার মাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে।’’ তিনি জানান, যে কাউন্সিলরেরা মাইকে প্রচার করছেন, তাঁদের বলা হয়েছে প্রচারের ছবি পাঠাতে। পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের বলা হচ্ছে কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারের কাজ চালাতে। পুরসভার তরফে আরও বলা হচ্ছে, ডেঙ্গির ধরন বদলে যাওয়ায় জটিলতা বাড়ছে।

পুরসভা সূত্রের খবর, কলকাতা শহরের তিনটি বরো এলাকার ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। এর মধ্যে ৯৭, ৯৯ এবং ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের হাল বেশ খারাপ বলে জানান অতীনবাবুও। পুরসভার একাধিক বরো চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়াতেও আক্রান্তের সংখ্যা এ বার বাড়তে শুরু করেছে। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এর পাশাপাশি ম্যালেরিয়া নিয়েও সতর্ক হওয়া দরকার। বৈঠকে সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চান তাঁরা।