ভরসন্ধ্যায় আচমকা আওয়াজ শুনে চমকে উঠেছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। একটু পরেই কয়েক জন যুবকের চিৎকার। ছুটে গিয়ে তাঁরা দেখেন, একটি তিনতলা বাড়ির দোতলার ঘরে কাঁধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাতরাচ্ছেন এক যুবক! 

পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম দিলীপকুমার রাও। বাড়ি কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া হরিজন বস্তিতে। ঘটনাটি ঘটেছে বিমানবন্দর সংলগ্ন মতিলাল কলোনিতে। দিলীপ বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ‘ক্যারিয়ার’-এর কাজ করতেন। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কক থেকে জিনিসপত্র কলকাতায় এনে সরবরাহ করতেন এবং কলকাতার জিনিস ব্যাঙ্ককে পৌঁছে দিতেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলীপকে প্রথমে একটি স্থানীয় নার্সিংহোমে এবং পরে ভিআইপি রোড লাগোয়া বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুলিশ জেনেছে, তিনটি মোটরবাইকে চেপে জনা চারেক দুষ্কৃতী এসেছিল। কী কারণে গুলি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক দুষ্কৃতীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, দিলীপরা মালপত্র রাখার জন্য মতিলাল কলোনির একটি বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। এ দিন সেখানেই তিন জন বন্ধুর সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। এ দিনই রাতে দিলীপ ও তাঁর কয়েক জন বন্ধুর ব্যাঙ্কক যাওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জেনেছে, দুষ্কৃতীরা ঘরে ঢোকার পরে বচসার আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। তার পরেই এক দুষ্কৃতী গুলি চালায়। সেটি দিলীপের পিঠে লাগে। তার পরেই দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। সোমা কর্মকার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি চার জন দুষ্কৃতীকে পালিয়ে  যেতে দেখেছেন।

পুলিশের একাংশ মনে করছে, ব্যবসা সংক্রান্ত গোলমালের জেরেই এই ঘটনা। আগে থেকে ছক কষেই সঙ্গে করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল ওই দুষ্কৃতীরা। এর পাশাপাশি আরও একটি সন্দেহের কথা উঠে আসছে। সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কক যাওয়া এবং মালপত্র কিনে আনার জন্য ওই ঘরে কয়েক লক্ষ টাকা এনে রেখেছিল দিলীপেরা। সেই টাকা লুঠ করার ছক ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে রাত পর্যন্ত লুঠ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলেই পুলিশ সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন: কলকাতায় আজ অমিত শাহ, রাজ্য জুড়ে পথে তৃণমূল

ঘটনার পরেই ওই এলাকায় বিরাট পুলিশবাহিনী যায়। দুষ্কৃতীদের খোঁজে আশপাশের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আচমকা একটা শব্দ। বেরিয়ে এসে জানতে পারি, গুলি চলেছে।’’ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্ট বলেন, ‘‘এমন ঘটনা এখানে আগে ঘটেনি। কেন ঘটল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’’ এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘একাধিক দুষ্কৃতী এসে গুলি চালিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’’