রাতের এক্সপ্রেসওয়ে। হু হু ছুটছে অটো। ভিতরে গুটিসুটি মেরে বসে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। সে-ই একমাত্র যাত্রী। তার নামার কথা কেউটিয়ায়। কিন্তু স্টপ ছাড়িয়ে গেলেও চালক তাকে নামাচ্ছে না। চালক জানিয়েছে, তাকে সে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে। তারস্বরে চিৎকার জুড়েও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত উল্টো দিক থেকে আসা লরিকে জায়গা দিতে গতি কমে অটোর। সেই সুযোগে চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপ মারে মেয়েটি।

সোমবার রাতের ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জগদ্দলের কেউটিয়ায়। স্থানীয়েরাই ওই ছাত্রীকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও আতঙ্ক কাটেনি কিশোরীর। সোমবার রাস্তার ধারে অটো রেখে বেপাত্তা হয়েছিল চালক শেখ কাবিল। মঙ্গলবার কেউটিয়ার চৌরঙ্গি থেকে তাকে ধরে পুলিশ। কিশোরীর অভিযোগ, কাবিল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। সে তা না মানায় তাকে নিয়ে অন্য কোথাও যাওয়ার মতলব ছিল তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই কিশোরীর বাড়ি আমডাঙা এলাকায়। সোমবার রাত আটটা নাগাদ সে কেউটিয়ায় মাসির বাড়ি যাওয়ার জন্য কাবিলের অটোয় ওঠে। তখন অটোয় ছিলেন চার যাত্রী। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার মুখে তাঁরা সকলে নেমে যান। কিন্তু কেউটিয়া আসার পরেও কাবিল অটো না থামানোয় ভয় পেয়ে যায় মেয়েটি। তার অভিযোগ, সে সময়ে কাবিল তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। তার সঙ্গে যেতে বলে। কিশোরী রাজি না হওয়ায় তীব্র গতিতে অটো ছুটিয়ে দেয় কাবিল।

কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, ভয় পেয়ে সে চিৎকার শুরু করে। তখনই উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরিকে জায়গা দেওয়ার জন্য অটোর গতি কমায় চালক। সঙ্গে সঙ্গে অটো থেকে ঝাঁপ দেয় ওই ছাত্রী। অন্য গাড়ির চালকেরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে এলাকাবাসীরা এসে কিশোরীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তত ক্ষণে পালিয়েছে অটোচালক।

হাসপাতাল থেকে মেয়েটি ফোনে ঘটনাটি জানায় বাড়িতে এবং মাসির বাড়ির লোকেদের। তাঁরা হাসপাতালে আসেন। পৌঁছয় পুলিশও। রাতেই তারা এক্সপ্রেসওয়ের ধার থেকে অটোটি আটক করে। অটোর সূত্র ধরে জানা যায় কাবিলের পরিচয়। মঙ্গলবার তার বাড়ি থেকেই ধরা পড়ে কাবিল।