দেহাতি চেহারা। কোলে একরত্তি শিশু। অফিসের ব্যস্ত সময়ে ভিড়ে ঠাসা মেট্রোয় এই সাদাসিধে ‘মাতৃমূর্তি’র যে কোনও কু-মতলব থাকতে পারে, তা ঘুণাক্ষুরেও আঁচ করেননি নিত্যযাত্রীরা। তবে মেট্রোর স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে শিশু কোলে এই মায়েদের মধ্যেই ধুরন্ধর হাতসাফাই চক্রের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে দুই মহিলা। তাদের থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অভিযোগকারীর সোনা-রুপোর গয়না এবং মোবাইল ফোন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহিলাদের নাম সীমা বেদ এবং মালা বেদ। আদতে বর্ধমানের বাসিন্দা 
ওই দুই মহিলার সঙ্গে রয়েছে এক এবং দেড় বছরের দুই শিশুও। রবিবার চারু মার্কেট থানার পুলিশ ওই দুই মহিলাকে আলিপুর আদালতে 
তুললে বিচারক তাদের ১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।  

পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার নিউ টাউনের বাসিন্দা এক মহিলা চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ করেন যে, তিনি পার্ক স্ট্রিট থেকে মেট্রোয় উঠেছিলেন। ভিড়ের মধ্যেই তাঁর ব্যাগ থেকে গয়না-সহ মোবাইল বার করে নিয়েছে কেউ বা কারা। পুলিশকে অভিযোগকারিণী জানিয়েছিলেন, কামরায় ভিড়ের মধ্যে শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মহিলা এই চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁর অনুমান। একই দিনে একই রকম আরও দু’টি অভিযোগ জমা পড়ে চারু মার্কেট থানায়। 
তাঁরাও মেট্রোয় ভিড়ের মধ্যে হাতসাফাইয়ের শিকার বলে পুলিশ জানতে পারে।এর পরে অফিসের ব্যস্ত সময়ে মেট্রো স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ধৃত মহিলাদের ছবি পাওয়া যায়। সূত্র মারফত খবর আসে, রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের পাশে একটি জায়গায় রয়েছে ওই দলটি। সেখানে হানা দিয়ে ওই মহিলাদের ধরে পুলিশ। 
পুলিশের দাবি, ধৃতেরা গত কয়েক মাস ধরে কলকাতাতেই থাকছিল। মেট্রোয় ভিড়ের মধ্যে শিশু কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। শিশুর হাত-পা ছোড়ার সুযোগে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর ব্যাগ থেকে হাতসাফাই করত ওই মহিলারা। 
এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, ‘‘ওই চক্রটি আগে হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে সক্রিয় ছিল। সেখানে বাচ্চা কোলে নিয়ে ভিক্ষে করত। কেউ টাকা দেওয়ার সময়ে অন্যমনস্ক হলে হাত সাফাই করে এলাকা ছাড়ত। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে টিকিট কেটে বৈধ যাত্রী সেজে অফিসের সময় মেট্রোয় চাপত। এর পরে সুযোগ বুঝে টাকা-গয়না হাতিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যেত।’’ ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বাকিদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।