এ রাজ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ন্যূনতম যে নিয়ম মানা প্রয়োজন, জি ডি বিড়লা সেন্টার ফর এডুকেশন কর্তৃপক্ষ তা মানেননি। এমনকী অভিযোগ, স্কুলটির সরকারি অনুমোদনও নেই। যা শুনে শুক্রবার বিস্ময় প্রকাশ করেন হাইকোর্টের বিচারপতি। 

স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এই স্কুলের বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইউ ডাইস-এর (ইউনিফায়েড ডিসট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম অব এডুকেশন) নিয়ম মেনে ‘কোড’ পায়নি এই স্কুল। স্কুল শিক্ষা দফতরের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ও নেই এই স্কুলের। অথচ এই স্কুলটি আইসিএসই-র অনুমোদিত। ফলে আইসিএসই-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দফতরের কর্তারা।

 সম্প্রতি ওই স্কুলের চার বছরের এক ছাত্রীর উপরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পরেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে তদন্তে নামে স্কুল শিক্ষা দফতর। ডেকে পাঠানো হয় ওই স্কুলের কর্তৃপক্ষকেও। সেখানেই স্পষ্ট হয়, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন অনুসারে ন্যূনতম যে বিষয়গুলি  বিভিন্ন স্কুলের মানার কথা, এই স্কুলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। অর্থাৎ, এই স্কুলের ছাত্রসংখ্যা এবং স্কুলের পরিকাঠামো সংক্রান্ত খুঁটিনাটি রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অজানা।

সিবিএসই বা আইসিএসই বোর্ডের অধীনস্থ স্কুলগুলিকে সর্বশিক্ষা মিশনের জেলা দফতরে এই বিষয়ে ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হয়। সেই ফর্ম ভরার পরে প্রতিটি স্কুলকে দেওয়া হয় একটি ১১ সংখ্যার কোড। তবে সেই কোড পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ওই ফর্মে নিজের স্কুলে পরিকাঠামো সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা যেমন জানাতে হয়, তেমনই তথ্য দিতে হয় অশিক্ষা কর্মীদের বিষয়েও। এই ফর্মের মাধ্যমেই স্কুল শিক্ষা দফতর বিভিন্ন স্কুলের সম্পর্কে তথ্য রাখে।

বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলকে ওই ফর্ম দেখেই ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেয় স্কুল শিক্ষা দফতর। কিন্তু বুধবার স্কুল শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, এই স্কুলের কর্তৃপক্ষ ওই ফর্ম জমাই দেননি। ওই কর্তা জানালেন, ১৯৭৩ সাল থেকে চলছে এই স্কুল। অথচ সরকারের কাছে স্কুল সম্পর্কে সমস্ত তথ্যই নেই। শহরের আরও কয়েকটি বেসরকারি স্কুল নিয়ে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলেও ওই কর্তা জানান।

দফতরের একাংশ স্বীকার করে নিচ্ছেন যে, এই ব্যবস্থাপনাতেই গলদ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে  সিবিএসই, সিআইসিএসই এবং স্কুল শিক্ষা দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও স্পষ্ট। এই ফর্মটি গোটা দেশের প্রতিটি স্কুলে পূরণ করার কথা। কোনও স্কুল যাবতীয় তথ্য না দিলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপও করতে পারে স্কুল শিক্ষা দফতর। তা হলে এত দিন পরেও এই স্কুলের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি? ওই কর্তা জানালেন, এই সমস্ত স্কুলের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ করতে পারে না স্কুল শিক্ষা দফতর। সিবিএসই, সিআইসিএসই-র কাছে সুপারিশ করতে পারে। এর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্কুলগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শনে যাওয়াও প্রয়োজন বলে জানালেন ওই কর্তা। যেটা হয় না বলেই তাঁর বক্তব্য। জি ডি বিড়লা স্কুলের মুখপাত্র সুভাষ মোহান্তি অবশ্য এ দিন বলেন, ‘‘বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’