• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সেকরাপাড়া লেনের বন্ধ ঘর থেকে বিগ্রহ চুরি, উত্তেজনা

Idol
সেকরাপাড়া লেনের এই বাড়ি থেকেই চুরি গিয়েছে অষ্টধাতুর তৈরি গোপাল (ইনসেটে)। শুক্রবার, বৌবাজারে। নিজস্ব চিত্র

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের কাজের জেরে ফাটল দেখা দিয়েছিল বৌবাজারের সেকরাপাড়া লেনের ১৪ নম্বর বাড়িটিতে। তড়িঘড়ি বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল বাসিন্দাদের। তার পরে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন হোটেলে, কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে। কেউ আবার হোটেল ছেড়ে উঠে গিয়েছেন মেট্রোর ঠিক করে দেওয়া ফ্ল্যাটে। তাঁরা কেউই অবশ্য সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি বাড়ির ইষ্টদেবতা, অষ্টধাতুর তৈরি গোপালের একটি মূর্তিকে। ভেবেছিলেন, তালাবন্ধ বাড়িতে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গোপাল সুরক্ষিতই থাকবেন। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে বাড়ির বাসিন্দারা অভিযোগ করলেন, বন্ধ ঘরের ভিতর থেকেই উধাও হয়ে গিয়েছেন সেই ইষ্টদেবতা! আর তা জানার পরেই মুচিপাড়া থানার দ্বারস্থ হলেন গোপালের সেবায়েত পরিবারের সদস্যেরা। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা।

গোপালের বর্তমান সেবায়েতরা জানান, ১৪ নম্বর সেকরাপাড়া লেনের ওই বাড়িতে ১৩৪১ সালের ২৩ আশ্বিন নিত্যগোপাল জিউয়ের মন্দিরটি স্থাপিত হয়। আর তার পরেই বাড়িটি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন ধনঞ্জয় দাসের স্ত্রী নিত্যসুন্দরী দাসী বা আঙুরবালাদেবী। আর তখন থেকেই ট্রাস্টের মাধ্যমে ১১ জন সেবায়েত গোপালের দেখভালের দায়িত্ব নেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ চলাকালীন আচমকাই দুর্গা পিতুরি লেন ও সেকরাপাড়া লেনের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যান মেট্রো কর্তৃপক্ষ। রাতের অন্ধকারে কেউই তখন বেশি জিনিসপত্র বার করে আনতে পারেননি। ১৪ নম্বর সেকরাপাড়া লেনেও রয়ে গিয়েছিল ইষ্টদেবতা গোপালের মূর্তিটি। বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, কয়েক দিন পরে ফিরে এলে গোপালকে আর ভিটেছাড়া করার প্রয়োজনই পড়বে না। কিন্তু মেট্রো কর্তৃপক্ষ যখন জানালেন, বাসিন্দাদের ফিরে আসতে দেরি হবে, কেউ কেউ ভেবেছিলেন, গোপালকে বার করে কারও এক জনের কাছে রাখবেন।

সেবায়েত পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার তাঁরা খবর পান, মেট্রো কর্তৃপক্ষ ভেঙে যাওয়া বাড়িগুলির মাপজোক করবেন। সেই মতো তাঁরাও আসেন তাঁদের বাড়ির মাপজোক করাতে। অভিযোগ, বাড়িতে ঢোকার গেট খোলার পরে মন্দিরের গেট খুলতেই দেখা যায়, তালাটি কেউ পাল্টে দিয়েছে। আর তখনই জানা যায়, ভিতরে গোপাল নেই। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা এর পরে বন্ধ করে দেন মেট্রোর কাজ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ।

সেবায়েতদের পরিবারের প্রশ্ন, মেট্রোর নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশের পাহারা সত্ত্বেও মন্দিরের তালা বদলে গোপাল চুরির ঘটনা ঘটল কী ভাবে?। তাঁদের সন্দেহ, পরিচিত কেউ এর পিছনে রয়েছে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন