টালা সেতুর সমস্যার মোকাবিলায় প্রশাসনের কাছে গুরুত্ব বাড়ছে নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশনের। তাই দ্রুত দখলমুক্ত করে স্টেশন সংলগ্ন রাস্তা সারানোর পাশাপাশি, মেট্রোর খালি জমিতে প্রায় হাজারখানেক মোটরবাইক এবং স্কুটার রাখার মতো স্ট্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা ছাড়াও পূর্ত দফতর এবং মেট্রোর আধিকারিকেরা যৌথ ভাবে নোয়াপাড়া স্টেশনের চারপাশ ঘুরে দেখেন।

প্রাথমিক ভাবে নোয়াপাড়া স্টেশনের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তের খালি জমি ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এ দিন পুলিশ এবং পূর্ত দফতরের কর্তাদের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানান, নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে তা বিবেচনা করা হবে। 

টালা সেতুতে ভারী যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পরে দমদম, বেলগাছিয়া এবং নোয়াপাড়া স্টেশনে মেট্রোর যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। কিন্তু দমদম ও বেলগাছিয়ার তুলনায় নোয়াপাড়ায় যাত্রী-সংখ্যা এখনও অনেকটাই কম বলে মেট্রো সূত্রের খবর। সারা দিনে প্রায় ১০ হাজার যাত্রী এখন ওই স্টেশন থেকে যাতায়াত করেন। যদিও ভিড় সামলানোর পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে নোয়াপাড়া মেট্রোর ব্যস্ত স্টেশনগুলির থেকে মোটেই পিছিয়ে নেই বলে দাবি মেট্রো কর্তাদের। ওই সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে নোয়াপাড়া নিয়ে আগ্রহ রয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষেরও।

পুলিশ এবং পরিবহণ দফতর সূত্রের খবর, স্টেশন সংলগ্ন অপরিসর রাস্তা এবং পূর্ব রেলের সঙ্কীর্ণ আন্ডারপাসের কারণে নোয়াপাড়া স্টেশন পর্যন্ত বাস চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ওই অসুবিধা কী ভাবে দূর করা যায়, তা-ও ভেবে দেখা হচ্ছে। টালা সেতু বন্ধের পরে দক্ষিণেশ্বর, বেলঘরিয়া, যতীন দাস নগর ও রাজচন্দ্রপুরের সঙ্গে নোয়াপাড়াকে জুড়তে সম্প্রতি ম্যাক্সি-ক্যাব চালনোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নোয়াপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এ কে মুখার্জি রোড ও বাগজোলা খালের পাড়ের রাস্তা বেহাল বলে অভিযোগ। রাস্তার যত্রতত্র মোটরবাইকের স্ট্যান্ড তৈরি হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। মেট্রোর জমি পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহার করা গেলে স্টেশনের সামনের রাস্তা দখলমুক্ত হতে পারে বলে মত প্রশাসনের কর্তাদের। যাত্রী বাড়লে নোয়াপাড়া থেকে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন বলে জানান এক মেট্রো কর্তা।