তিলজলা রোডে আদৌ গুলি চলেছিল কি না, ঘটনার তিন দিন পরে সে বিষয়ে কিছুটা সংশয় কাটল পুলিশের। শনিবার রাতের ওই ঘটনার পরে মঙ্গলবার তিলজলা থানার তরফে জানানো হয়, এ দিন কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে গুলি চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন। গুলি চালানোয় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের খোঁজ চালানো হচ্ছে। যদিও গত রবি এবং সোমবার পুলিশ বলেছিল, কার্তুজ পাওয়া গেলেও গুলি চলেনি। সেই বক্তব্য থেকে সরে এসে তিলজলা থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এ দিন বলেন, ‘‘গুলি চলেছে এটা ঠিক। তবে কাউকে লক্ষ্য করে সম্ভবত চালানো হয়নি।’’

এ দিকে, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিনোদ রায়। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে এ দিনও। তবে বিনোদের ভাই, ধৃত জীবত রায়কে সোমবার আদালতে তোলা হলে তাঁকে তিন দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

শনিবার গভীর রাতে গরুর খাটালে জল ফেলাকে কেন্দ্র করে খাটালের মালিক বিনোদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় বিজয় নামে এক যুবকের। বিজয় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার রাতে তিনি বাড়ি ফিরে বারান্দা থেকে মুখ ধুয়ে খাটালে জল ফেলেন। তার জেরেই বিনোদ এবং তার সঙ্গীরা ঝামেলা শুরু করে বলে অভিযোগ। বিজয়দের দাবি, তাঁদের ঘর লক্ষ্য করে একটি কাচের বোতল ছোড়া হয়। তখন ঘরে শুয়ে ছিল বিজয়ের দেড় বছরের ছেলে। সে কোনও মতে বেঁচে গিয়েছে। এর পরে প্রতিবাদ করতে নীচে নামলে বিজয় এবং তাঁর ভাই রোমিওকে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। বিজয়ের স্ত্রী তিলজলা থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রেফতার করা হয় বিনোদের ভাই জীবতকে। রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিজয় এবং তাঁর স্ত্রী পাড়ায় ফিরলে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলেও অভিযোগ।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

পুলিশের অনুমান, শনিবার রাত সাড়ে তিনটে থেকে রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার মধ্যে গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে। রবিবারই তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কার্তুজ উদ্ধার করে। বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রীও মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। তবে প্রথমেই পুলিশ গুলি চালানোর কথা মানতে চায়নি। বিজয়ের আর এক ভাই অজয় এ দিন বলেন, ‘‘বিনোদদের অনেক টাকা। ওরাই কিছু কলকাঠি নাড়ছে। সে কারণেই পুলিশ বলছিল, গুলি চলেনি। তারা এখনও কেন বিনোদকে ধরতে পারল না?’’

এ দিন বিজয়দের বাড়ি যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পাশাপাশি দেওয়ালে ছিদ্র থেকে তাঁদের ধারণা হয়, নীচের রাস্তা থেকে বিজয়দের তিনতলার বারান্দা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। তা-ই দেওয়ালে ছিদ্র করেছে। এর পরে বিস্ফোরক সামগ্রী যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছিল, সেই জায়গাও ঘুরে দেখেন তদন্তকারীরা।