কসবার টেগোর পার্কের বাসিন্দা, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থিম্যাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশন’ (ন্যাটমো)-এর অফিসার শীলা চৌধুরীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সতেরো বছরের নাবালকের মামলা চাইল্ড কোর্টে পাঠানোর আবেদন করলেন সরকারি আইনজীবী। তার জন্য আগে ওই নাবালকের মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। সোমবার কলকাতা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের (জে জে বোর্ড) প্রিন্সিপাল ম্যাজিস্ট্রেট কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছেন ওই নাবালকের মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।

পুলিশের একটি সূত্রের খবর, মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরে এই মামলা নিয়ে কলকাতা পুলিশের অধীনে তিনটি মামলা হবে, যেখানে নাবালকের বিচার-প্রক্রিয়া নতুন জুভেনাইল জাস্টিস আইন মেনে চাইল্ড কোর্টে হবে।

গত ৯ জুন টেগোর পার্কের ফ্ল্যাটে বছর চুয়ান্নর শীলা চৌধুরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, টাকার জন্যই শীলাদেবীকে খুন করেছে ওই আবাসনের সাফাইকর্মী শম্ভু কয়াল। আর শম্ভুকে খুনের কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে সাহায্য করেছে তারই সঙ্গী বছর সতেরোর এক নাবালক।

এই মামলায় দু’জনকে গ্রেফতারের পরে নাবালকটিকে পাঠানো হয়েছিল কলকাতা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। এর পরে তাকে ধ্রুবাশ্রমে পাঠানোর নির্দেশ দেয় সেই বোর্ড। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ জানায়, ওই নাবালক খুনের মতো কাজ করেও নির্বিকার। এতটুকু অনুশোচনাও নেই। এর পরেই তাকে হোমে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয় সরকারি আইনজীবীর পক্ষ থেকে।

গত সোমবার ফের জে জে বোর্ডে হাজির করানো হয় ওই নাবালককে। আর তখনই সরকারি আইনজীবী ওই নাবালকের বিচারপ্রক্রিয়া চাইল্ড কোর্টে পাঠানোর আবেদন করেন। কসবার ওই খুনের মামলায় অভিযুক্ত নাবালকই প্রথম নয়, যার বিচার চাইল্ড কোর্টে হবে। এর আগে আরও দু’টি মামলায় নাবালকের বিচারপ্রক্রিয়া চাইল্ড কোর্টে পাঠানো হয়েছে। একটির বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। অন্যটির হবে।

পুলিশের একটি সূত্রের খবর, গত বছর নিউ আলিপুরের বাড়িতে খুন হয়েছিলেন ৮২ বছরের মলয় মুখোপাধ্যায়। সেই ঘটনাতেও জড়িত ছিল বছর সতেরোর এক কিশোর। তাকেও প্রথমে জে জে বোর্ডে হাজির করানো হয়। পরে মামলা আলিপুর আদালতের চাইল্ড কোর্টে স্থানান্তরিত হয়। একই ভাবে মাস দুয়েক আগে জে জে বোর্ড থেকে আরও একটি খুনের মামলা গিয়েছে চাইল্ড কোর্টে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাকারিয়া স্ট্রিটে খুন হন রত্ন ব্যবসায়ী মহম্মদ সেলিম (৫৬)। সেই খুনেও বিহার থেকে গ্রেফতার হয় সতেরো বছরের এক কিশোর। তিন বার এসএসকেএমে তার মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার পরে গত ৩১ জানুয়ারি ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি থেকে জানানো হয়, ওই নাবালকের মানসিক স্থিতি সাবালকের মতোই। তার পরেই এপ্রিলে কলকাতা জে জে বোর্ড থেকে মামলা গিয়েছে চাইল্ড কোর্টে। জে জে বোর্ডের সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, ‘‘নতুন আইনে বিচারপ্রক্রিয়া যাতে চাইল্ড কোর্টে হয়, তার আবেদন করেছিলাম।’’

মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা ঠিক কী? সৌরীনবাবু জানান, ওই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা হয়, অভিযুক্ত নাবালক বা নাবালিকার অপরাধ করার মতো মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা রয়েছে কি না। দেখা হয়, অপরাধ করার পরে বিষয়টির গুরুত্ব সে বুঝতে পারছে কি না। তিনি আরও জানান, চাইল্ড কোর্টে নাবালক দোষী সাব্যস্ত হলে ১০ বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে। জাকারিয়া স্ট্রিট এবং কসবার ঘটনায় অভিযুক্ত দুই নাবালক জেনেবুঝেই খুন করেছিল বলে সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারীরা মনে করছেন।