কাজ শেষের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই আগামী মে মাসে কামালগাজি উড়ালপুল চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এক প্রস্ত আলোচনা হয়েছে তদারককারী কেএমডিএ দফতরে।

ই এম বাইপাস এবং বারুইপুর রোডের সংযোগকারী কামালগাজি উড়ালপুলের পরিকল্পনা হয়েছিল ২০০৭ সালে। এর কাজ শুরু হয় ২০০৯-এর জানুয়ারি মাসে। প্রস্তাবিত প্রকল্পব্যয় ছিল ১২ কোটি টাকা। কিন্তু বাম আমলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমি হারানোর প্রশ্নে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন। জমি অধিগ্রহণের জটে আটকে যায় প্রকল্পটি। ২০১১-য় যখন তার আইনি ছাড়পত্র মেলে, তখন বিধানসভা ভোট আসন্ন। আর, তার পরেই রাজ্যে ঘটল রাজনৈতিক পালাবদল। তখন আগের পরিকল্পনার সামান্য পরিমার্জন করে ফের উড়ালপুলটি তৈরির পরিকল্পনা হয়। ২০১৩-র ১৫ জানুয়ারি কেএমডিএ কর্তাদের সঙ্গে এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন নগরোন্নয়ন সচিব দেবাশিস সেন। লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয় দেড় বছর। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরুর পরে কাজের গতি আশাপ্রদ না হলেও গত কয়েক মাসে এই গতি অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব হয়।

প্রকল্পস্থলে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ‘চার লেন’ অর্থাৎ ৩০ মিটার চওড়া এই উড়ালপুলের উত্তরপ্রান্ত ও মাঝের পর্বের কাজ প্রায় শেষ। দক্ষিণ দিকে এটি দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে। সেই অংশের এবং উড়ালপুলের নীচের সৌন্দর্যায়নের কাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাননি রাজ্যের নগরোন্নয়ন সচিব। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেএমডিএ-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার উদয়ন মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রকল্পের রাস্তা তৈরির কাজ ৯৬ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। মে মাসে যান চলাচলের মহড়া করার কথা।’’ তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা। বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্টে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকার মত।

এ দিকে, লক্ষ্যমাত্রা পেরোনোর প্রায় তিন বছর বাদেও শেষ হয়নি বিবেকানন্দ রোড উড়ালপুল এবং ইএম বাইপাস ও পার্ক সার্কাসের মধ্যবর্তী পরমা উড়ালপুলের কাজ। ধীর গতিতে এগোচ্ছে জিঞ্জিরাপোল ও বাটানগরের মাঝে বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের উড়ালপুলের কাজও। সেখানে কামালগাজি উড়ালপুলের কাজ যে ভাবে এগিয়েছে, তাতে খুশি কেএমডিএ কর্তারা।