দোকানে বসে ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায় সেখানে। ভিতরে থাকা দু’জন দোকানে বসে থাকা ব্যবসায়ীকে বাইরে ডাকে। এর পরেই ব্যবসায়ীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চম্পট দেয় ওই দু’জন। 

পুলিশ জানায়, গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে এ ভাবেই তিলজলা থানার পিকনিক গার্ডেন রোড থেকে ‘অপহৃত’ হয়েছিলেন রাজারহাটের বাসিন্দা নিরঞ্জন কুমার ওরফে আমন ওয়ার্সি  নামে এক ব্যবসায়ী। পাঁচ দিন পরে অপহৃতের স্ত্রী আফরিন ওয়ার্সি তিলজলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিহারের জামুই থেকে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে এক অপহরণকারীকে। ধৃতের নাম রণধীর কুমার। পুলিশ জানায়, একটি গ্রামে আটকে রাখা হয়েছিল নিরঞ্জনকে। অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠেছে, তারা অপহৃতের পূর্ব পরিচিত। 

পুলিশের কাছে অভিযোগে আফরিন দাবি করেন, ঘটনার দিন বিহারের পটনার বাসিন্দা রাজেশ এবং সুশান্ত নামে দুই যুবক একটি গাড়ি নিয়ে আসে। নিরঞ্জনকে সেটিতে তুলে নিয়ে চলে যায় দু’জন। তদন্তকারীরা জানান, এর পরেই ৮০ লক্ষ টাকা চেয়ে অভিযুক্তেরা ফোন করে আফরিনকে। প্রথমে আফরিন তা পুলিশকে না জানালেও, গত ৪ মে তিলজলা থানায় পূর্ব পরিচিত দুই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানতে পারে, অপহরণকারীরা একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মুক্তিপণের টাকা জমা দিতে বলেছে। দুষ্কৃতীদের মোবাইল টাওয়ারের গতিবিধি থেকে পুলিশ জানতে পারে, তারা বিহারে রয়েছে। পুলিশের একটি দল বিহারে যায়। ইতিমধ্যে রফা হয় ৮০ লক্ষ নয়, ৬ লক্ষ টাকায় ছাড়া হবে ব্যবসায়ীকে। তবে টাকা নেওয়ার নামেও অভিযুক্তেরা চার দিন ধরে ঘোরায় আফরিনদের। পুলিশ জানায়, প্রথমে জামুইতে টাকা নেবে বললেও পরে আসানসোলে যেতে বলে। ওই ভাবে ঝাঁঝা, বাঁকাতে ঘুরিয়ে বৃহস্পতিবার হাওড়ায় টাকা নিয়ে আসতে বলে। পরে মত বদলে ফের জামুইতে ডাকে অপহরণকারীরা। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

লালবাজার সূত্রে খবর, অপহরণকারীরা নিরঞ্জনের থেকে টাকা পেত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সেই টাকা আদায় করতেই এই অপহরণ।