উত্তর কলকাতার সবুজ ওয়ার্ড বলে পরিচিত পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড। গাছগাছালিতে ভরা এই ওয়ার্ডেই রয়েছে টালা ঝিল পার্ক। জলাশয় ঘেরা পার্কে সকাল-বিকেল ঘুরতে আসেন অসংখ্য মানুষ। নির্দিষ্ট মরসুমে সাঁতারের প্রশিক্ষণও চলে সেখানে। তবে মাস দেড়েক আগে জলাশয়ে স্নান করতে নেমে এক যুবকের মৃত্যু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, পার্কের নিরাপত্তা নিয়ে। কী ভাবে চলে সেখানে সাঁতারের প্রশিক্ষণ?

শুক্রবার বিকেলে ঝিল পার্কে ঢুকে দেখা গেল, এক দিক ঘেরা জায়গায় খুদে শিক্ষানবীশেরা সাঁতার কাটছে। ওই প্রান্তের বাঁধানো পাড়ের দেওয়াল হেলে রয়েছে। দেওয়ালের অন্য প্রান্ত ঘেঁষা বড় গাছের ডাল নুইয়ে পড়ছে ঝিলের জলে। প্রশিক্ষণ নিতে আসা এক কিশোরের বাবা বললেন, ‘‘কী পরিস্থিতিতে ওরা সাঁতার শিখছে দেখুন! ঝড়বাদলে যদি কোনও ডাল ভেঙে ঝিলে পড়ে, আর সেই সময়ে যদি প্রশিক্ষণ চলে তবে কত বড় বিপদ ঘটতে পারে ভাবুন।’’

ঝিলে দু’টি ক্লাব সাঁতারের প্রশিক্ষণ দেয়। ক্লাবের কর্মকর্তারা মানছেন, হেলে থাকা দেওয়ালটি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরাও। প্রশিক্ষক প্রবীর রায় বলেন, ‘‘যে ভাবে গাছ নুইয়ে ঝিলের জলে পড়েছে সেটা বিপজ্জনক। ডাল বা হেলানো দেওয়াল যদি ভেঙে ঝিলে পড়ে, তাই ও দিকে সাঁতার কাটতে নিষেধ করেছি।’’ একটি ক্লাবের সম্পাদক দেবাশিস সেন বলেন, ‘‘ঝিলের রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা পুরসভার। পাড় বাঁধানো ও ডাল ছাঁটতে বহু বার পুরসভাকে বলেছি।’’

পাশাপাশি ক্লাবের কর্মকর্তাদের অভিযোগ রয়েছে টালা ঝিল পার্কের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা নিয়েও। তাঁদের দাবি, অনেক সময়ে বাইরে থাকা আসা কিশোর-যুবকেরা ঝিলের জলে নেমে দাপাদাপি করতে থাকে। মাস দেড়েক আগেই এ ভাবে স্নান করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। অভিযোগ উঠেছিল, নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে পাঁচিল টপকে ঝিলে বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করছিলেন ওই যুবক। দুই সাঁতার ক্লাবের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ক্লাব দু’টি সকালে ও বিকেল তিন ঘণ্টা খোলা থাকে। তত ক্ষণ তাঁরাই নজর রাখেন।

এক নম্বর বরোর অন্তর্ভুক্ত পার্কের সমস্যা নিয়ে বরো চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় কাউন্সিলর তরুণ সাহার দাবি, ‘‘দুর্ঘটনার পর থেকে এখন সকাল-বিকেল প্রশিক্ষণের পরে বন্ধ থাকে গেট। ঝিলের পাড় বাধাই শুরু হয়েছে। বিপজ্জনক পাড় দ্রুত সারাই করা হবে।’’