• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কাগজ দেখাতে হবে, গাড়ি ভাড়ায় কড়া পুরসভা

KMC
ফাইল চিত্র।

ফের ভাড়া গাড়ির ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করলেন কলকাতা পুর কর্তৃপক্ষ।

চুক্তির ভিত্তিতে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বৈধ ছাড়পত্র, করের বৈধ শংসাপত্র, বিমার কাগজ-সহ সব নথি ঠিক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য সমস্ত দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। এই সমস্ত নথি ঠিক থাকলে তবেই সেই গাড়ি চুক্তির ভিত্তিতে কোনও দফতর ভাড়া নিতে পারবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তিন মাস অন্তর সেই সমস্ত কাগজপত্রের পরীক্ষার পাশাপাশি ভাড়া গাড়ির বিল মেটানোর সময়ে সংশ্লিষ্ট নথির প্রতিলিপিও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই কড়াকড়ির কারণ কী?

পুরকর্তাদের অনেকেরই বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরেই চুক্তিভিত্তিক গাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে টাকার অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশও। যেখানে ১৫ বছরের পুরনো বাণিজ্যিক গাড়িকে বাতিলের কথা বলা হয়েছে। মূলত এই দুই কারণের জন্য কলকাতা পুরসভা ভাড়া গাড়ির ক্ষেত্রে এমন নিয়ম চালু করেছে বলে দাবি তাঁদের।

পুরকর্তারা এ-ও জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, বৈধ কাগজ ছাড়াই পুরসভার কোনও দফতরের ভাড়া করা গাড়ি দিব্যি চলছিল। এ দিকে গাড়ির যে কাগজ নেই, সে সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন তাঁরা। ঘটনাচক্রে যখন কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে বা ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জরিমানা করা হয়েছে, তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে ‘বিড়ম্বনা’য় পড়তে হয়েছে পুরসভাকে। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে কারণেই এই পদক্ষেপ।

যদিও কর্তৃপক্ষের যুক্তি, পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মান্য করার ক্ষেত্রে যাতে কোনও গাফিলতি না থাকে, সে কারণে এই কড়াকড়ি। এক কর্তার কথায়, ‘‘১৫ বছরের পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি বাতিল করতে বলেছে পরিবেশ আদালত। তাই ভাড়া গাড়ির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত।’’

এর আগে পুরকর্তাদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির ক্ষেত্রে আর্থিক অপচয় বন্ধ করতে একগুচ্ছ নিদান দিয়েছিলেন পুর কর্তৃপক্ষ। কারণ, দেখা যাচ্ছিল, কোনও পুরকর্তা অবসর নেওয়ার পরেও তাঁর নামে বরাদ্দ করা গাড়িটি দিব্যি চলছে। অথচ কে বা কারা সেটি চালাচ্ছেন, তার তথ্যই নেই কর্তৃপক্ষের কাছে! বিষয়টি নজরে আসার পরেই কোনও পুরকর্তার বরাদ্দ গাড়ির নবীকরণ ও বদল, যে কোনও ক্ষেত্রেই স্পেশ্যাল পুর কমিশনারের অনুমতি বাধ্যতামূলক করেছিল পুরসভা। এ বার আরও এক ধাপ এগিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্দেশ জারি হল।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন