শিয়রে পুর নির্বাচন! তাই শহরবাসীর মন জয়ে ‘টক টু মেয়র’ বা ‘সিটিজেন্স ফোরাম’-এর মতো নানা প্রকল্প চালু করেছে পুর প্রশাসন। তাতে অবশ্য পুর পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ জানানোর হিড়িকও বেড়েছে। জনগণের দাবি মতো সমস্ত কাজ করতে হলে যতটা সময় দরকার, ভোটের আগে তা পাওয়া মুশকিল। তাই পুরসভার দৈনন্দিন কাজে দরপত্রের স্বাভাবিক নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পুর বোর্ড। বলা হয়েছে, বর্তমান নিয়ম অনুসারে দরপত্র ডেকে কাজের বরাত দিতেই মাস দু’য়েকের বেশি সময় লেগে যায়। তাই নিয়ম কিছুটা শিথিল করা দরকার। সম্প্রতি পুরসভার মেয়র পরিষদের বৈঠকে সেই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, রাস্তাঘাট, নিকাশি থেকে জলের পাইপলাইন— যে কোনও কাজেই দরপত্র ডাকার আগে তা পুরসভার ওয়ার্কস কমিটির কাছে পেশ করতে হয়। কাজের পদ্ধতি, নির্ধারিত খরচ এবং দরপত্রের মূল্য যাচাই করে দেখে ওই কমিটি। তাদের সম্মতি মিললে তবেই দরপত্র ডাকার ছাড়পত্র মেলে। দরপত্র প্রক্রিয়া মিটে যাওয়ার পরে বিষয়টি যাচাই করে পুরসভার টেন্ডার কমিটি। দরপত্র ডাকা ও গ্রহণের ক্ষেত্রে খুঁটিনাটি নিয়ম মানা হয়েছে কি না, ওই কমিটি তা খতিয়ে দেখে। 

পুরসভার এক অফিসার জানান, দু’টি কমিটির কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে কাজের বরাত দিতে অনেক সময় লেগে যায়। মাস দু’য়েকেরও বেশি। মেয়র পরিষদের বৈঠকে পুর বোর্ডের সদস্যেরা প্রস্তাব দেন, ভোটের আগে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। তখনই ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান নিয়ম মেনে ওয়ার্কস এবং টেন্ডার কমিটির অনুমোদন নিয়ে কাজ করতে হলে সময় লাগবেই। ওই পদ্ধতিতে ছোট ছোট কাজ করতেও দু’মাসের বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এমনটা চললে ভোটের আগে শহরবাসীর বেশির ভাগ সমস্যাই যে মেটানো যাবে না, তা ঠারেঠোরে পুর কর্তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর পরেই পুরসভা সিদ্ধান্ত নেয়, দরপত্রের নিয়মে কিছু বদল করতে হবে।

কী সেই বদল? পুরসভা সূত্রের খবর, ১০ হাজারের বেশি টাকার কাজের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল, ওয়ার্কস কমিটি ও টেন্ডার কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। এখন সেই নিয়ম শিথিল করে বলা হয়েছে, ১০ লক্ষ টাকার কম কোনও কাজের ক্ষেত্রে ওয়ার্কস কমিটি বা টেন্ডার কমিটির অনুমোদন লাগবে না। এ ক্ষেত্রে শর্ত হল, সেই দরপত্রে নির্ধারিত খরচের সমান অথবা কম দর থাকতে হবে। খরচ বেশি দেখানো হলে তা টেন্ডার কমিটিতে পাঠানো হবে। পুরসভার অফিসারদের কথায়, নতুন এই নিয়মে কাজের গতি বাড়বে। সময়ও অন্তত এক মাস কমবে।