শহরবাসীকে ফোন করে পুর পরিষেবায় অসুবিধা আছে কি না জানতে চাইবে পুর প্রশাসন। কলকাতা পুরভোটের আগে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরবোর্ড। ঠিক হয়েছে, আগামী জুলাই থেকে শহরবাসীর সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে পুরসভা। তবে পুরভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত ‘লোক ভোলানো’ বলে দাবি বিরোধী দলগুলির।

কলকাতার পুর কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কলকাতা পুরসভা পানীয় জল সরবরাহ, জঞ্জাল অপসারণ, জনস্বাস্থ্য এবং রাস্তাঘাট ঠিক রাখার কাজ করে। সেই কাজে গাফিলতি নিয়ে নানা অভিযোগ আসে। এ বার সরাসরি শহরবাসীর মুখ থেকে তা শুনতে চায় পুর প্রশাসন। কী ভাবে? পুর কমিশনার জানান, শহরের বাসিন্দাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে সিইএসসি থেকে। তার তালিকা বানানো হচ্ছে। প্রতিদিন ১০০ জনকে পুরসভা থেকে ফোন করে জানতে চাওয়া হবে, পরিষেবা ঠিক মতো পৌঁছচ্ছে কি না। ফোনে কেউ জঞ্জালের, কেউ ফুটপাতের পেভার ব্লক বা পানীয় জল, আলো, রাস্তা নিয়ে অভিযোগ জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্পত্তিকর, লাইসেন্স নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তারও সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। 

যদিও পুর প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে কংগ্রেস কাউন্সিলর প্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, ‘‘লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ফল ভাল হয়নি, তাই পুরভোটের আগে জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা। এত দিন ভাবা হয়নি কেন?’’ বাম কাউন্সিলর দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘ফোনে অভিযোগ শোনার সিদ্ধান্ত বুঝিয়ে দিচ্ছে কাজ ঠিকমতো হয় না। আমরা তো এটাই বলি।’’ তবে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘কাজ করলে কিছু অভিযোগ শুনতে হয়। সমস্যার সমাধান করাটাই লক্ষ্য। সেটা জিইয়ে রেখে রাজনীতি করা বিরোধীদের অভ্যাস। এ ক্ষেত্রেও ওঁরা তাই করছেন।’’ তবে অনেকে এই সিদ্ধান্তকে শাসক দলের ভোট রাজনীতি বলে মনে করছেন।