বছর দেড়েক আগেই রবীন্দ্র সরোবরে প্রবেশমূল্য চালু করার জন্য পরিবেশ আদালত নির্দেশিকা দিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা চালু হয়নি। প্রবেশমূল্য চালু করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হলেন কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ।

কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সরোবরে প্রবেশমূল্য চালু করার ক্ষেত্রে সরকারি কোনও নির্দেশ নেই। তা ছাড়া, প্রবেশমূল্য-সহ আরও কয়েকটি বিষয় বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কিছু অসুবিধাও রয়েছে। ফলে, সে গুলি আদালতে পর্যালোচনা করতে পারলে ভাল হয়। যদিও এই বিষয়টি কয়েক মাস আগেও একবার পরিবেশ আদালতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হলে নতুন করে কোনও নির্দেশ আসেনি।

কেএমডিএ সূত্রের খবর, ছট পুজো-সহ সরোবরে দূষণ আটকাতে পরিবেশকর্মীদের একাংশ সরব হয়েছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে সরোবরের দূযণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। পরে পরিবেশ আদালতে মামলাও করেন তাঁরা। সেই মামলার ভিত্তিতে পরিবেশকর্মী এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করে দূযণ প্রতিকারে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করার কথা বলে আদালত। কমিটি বিষয়টি বিবেচনা করে যে প্রস্তাব দেয়, তার ভিত্তিতেই পরিবেশ আদালত প্রবেশমূল্য ধার্য করার রায় দেয়। প্রবেশমূল্য চালু করা ছাড়াও সরোবরে খেলা, মাইক বাজানো-সহ বিভিন্ন বিষয়ের কথা বিবেচনা করে পরিবেশ আদালত ওই নির্দেশিকা জারি করে।

পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘‘বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে সরোবরে প্রবেশমূল্য চালু করার উল্লেখ ছিল। এ ছাড়া আরও কিছু বিষয়ের উপরেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সরোবরে প্রবেশমূল্য চালু করতে আদালতের নির্দেশ ছিল। কিন্তু এখনও চালু হল না।’’ রবীন্দ্র সরোবরে প্রবেশমূল্যের প্রয়োজন কোথায়? সুভাষবাবুর বক্তব্য, প্রবেশমূল্য থাকলে প্রচুর সংখ্যক মানুষ, বিশেষত হকারেরা সরোবরে প্রবেশ করতে পারবেন না। সেটা হলে সরোবর চত্বর অনেক পরিষ্কার থাকবে। বিভিন্ন ভাবে দূষণ কমলে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের পক্ষেও সুবিধা হবে। অন্য দিকে, প্রবেশমূল্য চালু হলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। শহরের মধ্যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এবং বটানিক্যাল গার্ডেনে আগেই প্রবেশমূল্য চালু করা হয়েছে বলে 

তিনি জানান।