সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তার নিরিখে উপযুক্ত পদক্ষেপের জন্য তড়িঘড়ি একটি কমিটি গঠন করল ‘কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (কেএমডিএ)। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটি শহরে কেএমডিএ-র অধীনে থাকা ১৫টি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। তার পরে কী পদক্ষেপ করণীয়, তা বলে দেবে।

ওই কমিটিতে কেএমডিএ-র দুই ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও থাকবেন আইআইটি খড়্গপুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক অধ্যাপক। পাশাপাশি থাকবেন, ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের কোড কমিটির সদস্য অমিতাভ ঘোষাল এবং এক জন স্বাধীন পরামর্শদাতা। গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেএমডিএ বা পূর্তের মতো দফতরগুলির অধীনে এমন একটি কমিটি গঠন করতে।

কেএমডিএ-র অধীনে থাকা শহরের মোট ১৫টি সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এর পরে কারা করবে, সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে ওই কমিটি। তারাই বিশেষজ্ঞ সংস্থার নাম প্রস্তাব করবে, যারা জরুরি ভিত্তিতে কোনও সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবে। তা ছাড়া, কোন সেতুর ক্ষেত্রে কী ধরনের কাজ করা প্রয়োজন, কী ভাবে সেই কাজ করা হবে, চূড়ান্ত পরিকল্পনাই বা কী ভাবে করা হবে এবং বিজ্ঞানসম্মত ভাবে নজরদারি কী ভাবে চলবে— সেই বিষয়গুলিও স্থির করে দেবে ওই কমিটি।

ঘটনাচক্রে, মাঝেরহাট সেতুর বিপর্যয়ের পরে তড়িঘড়ি রাজ্যের বিভিন্ন সেতু এবং উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তারই ভিত্তিতে শহরের অন্তত ২০টি সেতুকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলির ব্যবহারের মেয়াদ হয় শেষ হয়ে গিয়েছে, নয়তো তাদের স্বাস্থ্যের হাল বেশ দুর্বল। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা স্থির করতেই ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের অনেকেরই অভিমত, সেতুর নজরদারি এবং সেগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো কাজে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চলা উচিত, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিলবে। সেই কারণে উপযুক্ত রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সরকার।

এই প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘সেতু রক্ষণাবেক্ষণের সব দিক নিয়েই পরামর্শ দেবে ওই কমিটি। যাতে পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশ পাওয়া যায়।’’

ঘটনাচক্রে বিবেকানন্দ উড়ালপুলের একাংশ ভেঙে পড়ার পরে এমন নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও সাম্প্রতিক সরকারি সমীক্ষায় সেতুগুলির দুরবস্থার  কথা জানাতে পেরেই এই বিশেষজ্ঞ কমিটি গড়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।