সাইকেল ব্যবহার করে কেউ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তার ধারে ঝোপের মধ্যে। কেউ বা নির্জন মাঠে সাইকেল রেখে উধাও হয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার সাইকেল ব্যবহার করে সাইকেলের লকটাই ভেঙে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। নিউ টাউনে ‘স্মার্ট সাইকেল’ ব্যবহারকারীদের একাংশ এখন এ ভাবেই যেখানে সেখানে সাইকেল ফেলে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মাস তিনেক আগে নিউ টাউনে একটি নতুন তৈরি হওয়া সংস্থা শুরু করেছে অ্যাপ-নির্ভর এই স্মার্ট সাইকেল পরিষেবা। পুরো নিউ টাউন জুড়ে ৪০টি সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করে ৪০০টি সাইকেল রাখার ব্যবস্থা করেছে তারা। এক ঘণ্টায় দু’টাকার বিনিময়ে স্ট্যান্ড থেকে এই সাইকেল নিয়ে যাওয়া যায়। একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে সাইকেলটি ভাড়া নিয়ে অ্যাপের মাধ্যমেই সাইকেলটির তালা খুলতে হয়। ওই সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, সাইকেল ব্যবহারের পরে সেটিকে আবার স্ট্যান্ডেই রেখে দিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যবহারকারীই সেই নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ।

এ রকম অভিনব একটা পরিষেবা জনপ্রিয়ও হয়েছে নিউ টাউনে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই পরিষেবার গ্রাহকেরা সাইকেল ব্যবহার করে সেটিকে ঠিক জায়গায় রাখছেন না। যেখানে সেখানে ফেলে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে ওই সাইকেলগুলি অন্যেরা ব্যবহার করতে পারছেন না।

ব্যবহারের পরে নির্দিষ্ট জায়গার বদলে এ ভাবেই যেখানে সেখানে সাইকেল ফেলে যাচ্ছেন অনেকে। নিউ টাউনে। ইনসেটে, তালা খুলতে প্রয়োজন এই কোডের।

নিউ টাউনের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মানুষের সচেতনতার অভাবে এই অভিনব পরিষেবা কার্যত সঙ্কটে। এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘নিউ টাউনকে দূষণমুক্ত রাখতে সাইকেল খুবই উপযোগী একটি পরিবহণ। কিন্তু কিছু মানুষের সচেতনতার অভাবে এই পরিষেবা ধাক্কা খাচ্ছে।’’ নিউ টাউনের নারকেলবাগান মোড়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘এই স্মার্ট সাইকেলের ভাঙা লক পড়ে ছিল আমাদের বাড়ির কাছে একটি মাঠে। এক জায়গায় আবার দেখলাম, একটি সাইকেলে দু’জন চেপে চলেছে। এ ভাবে সাইকেল ব্যবহার করলে কী করে পরিষেবা ঠিক মতো চলবে?’’

সাইকেল ব্যবহার করে গ্রাহকেরা যে সেগুলি ঠিক জায়গায় রাখছেন না, সে কথা মেনে নিয়েছেন হিডকো-র চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছি। কেউ যদি ঠিক জায়গায় সাইকেল রাখেন, তা হলে তাঁকে বোনাস পয়েন্ট দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।’’

ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য